গরমে কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে ডায়াবেটিকদের? ছবি: সংগৃহীত।
ভারতে ডায়াবিটিসের লেখচিত্রটি বেশ উচ্চগামী। অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, মানসিক চাপের কারণে বয়স ৩০ পেরোতেই না পেরোতেই অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়াবিটিসে। আর ডায়াবিটিসের হাত ধরেই উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের মতো রোগের জন্ম হচ্ছে। সারা বছর তো বটেই, গরমের দিনগুলিতে বিশেষ করে ডায়াবেটিকদের বেশি সচেতন থাকা প্রয়োজন। কারণ গরমে আর্দ্রতার কারণে ঘাম হয় বেশি। ফলে শরীরে জলের পরিমাণও কম থাকে। আর ডায়াবিটিস রোগীদের মধ্যে এই সমস্যা আরও বেশি করে দেখা যায়। শরীরে জলের পরিমাণ কম থাকলে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই গরমে সুস্থ থাকতে ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জীবনযাপন ও খাওয়াদাওয়ায় কিছুটা বদল আনা জরুরি।
১) সুস্থ মানুষের তুলনায় ডায়া্বেটিকদের ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। জলের ঘাটতি তৈরি হলে শর্করার ভারসাম্য যেমন বিগড়ে যায়, তেমনই বিগড়ে যায় বিভিন্ন খনিজ পদার্থের ভারসাম্যও। তাই পর্যাপ্ত মাত্রায় জল খাওয়া জরুরি। তবে বেশি নরম পানীয় কিংবা চা-কফি পান করা উচিত নয়। এতে জলশূন্যতার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
২) গরম পড়লেই নরম পানীয়ের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়। নরম পানীয়ের অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরি এক ধাক্কায় রক্তের শর্করার মাত্রা অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। তাই রোদে বেরিয়ে নরম পানীয়ে চুমুক নয়, সঙ্গে জলের বোতল রাখুন। তেষ্টা মেটাতে ডাবের জল চিনি ছাড়া দইয়ের ঘোল খেতে পারেন। টাটকা ফলের রসও খাওয়া যাবে না। বাজারে যে ওআরএস পানীয় পাওয়া যায়, গরমের দিনে মাঝেমধ্যে সেগুলিও খেতে পারেন।
৩) এই সময় ডায়েট নিয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে ডায়াবিটিস রোগীদের। বাইরের খাবার, মিষ্টি, তেলেভাজা, এই ধরনের খাবার থেকে পুরোপুরি দূরে থাকুন। বদলে ফাইবার আছে, এমন খাবার বেশি করে খান। ওট্স, ব্রাউন রাইস, গাজর, টম্যাটো রোজকার পাতে রাখুন। এ সময়ে তেল-মশলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। গরমের সময় কী ফল খাবেন সেই নিয়ে বেশ চিন্তায় থাকেন ডায়াবেটিকরা। এই সময় ডায়েটে শসা, মুসাম্বি, তরমুজ, কালোজামের মতো ফল রাখতে হবে ডায়েটে।
৪) গরমকালে শরীরচর্চা করা সত্যিই অসুবিধাজনক। বিশেষ করে বাইরে হাঁটাহাঁটি করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে এই সময়ে। তাই চেষ্টা করুন বাড়ির ভিতরেই শরীরচর্চা করার। ১৫ মিনিটের পরিমিত ব্যায়ামও শর্করার স্তরকে প্রভাবিত করতে পারে। সুতরাং যতই অলস লাগুক, অল্পবিস্তর শরীরচর্চা করতেই হবে।
৫) সারা বছর অনেকেই শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করেন না। গ্রীষ্মে এই ভুল করবেন না। এই সময়ে নিয়ম করে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন। যদি দেখেন, শর্করার মাত্রা বেশি, সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ফেলে রাখবেন না।