শরীরের গড়ন সুন্দর হবে পূর্ণ উষ্ট্রাসনে। চিত্রাঙ্কন: শৌভিক দেবনাথ।
দিনের বেশির ভাগ সময়টাই ল্যাপটপে চোখ রেখে কাটে। তার জন্য চোখের যা ক্ষতি হওয়ার তা তো হচ্ছেই, সঙ্গে পিঠ, কোমরে ব্যথাও বাড়ছে। ইদানীং আরও একটি সমস্যা হচ্ছে অনেকের। তা হল হাঁটাচলার সময়ে শরীর ঝুঁকি যাওয়া। স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। দিনের পর দিন ভারী ব্যাগ বয়ে মেরুদণ্ডের নমনীয়তা কমছে। সে ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধানে ভরসা হতে পারে যোগাসনই। দীর্ঘ ক্ষণ পিঠ বেঁকিয়ে বসে যাঁরা কাজ করেন বা বয়সজনিত কারণে শরীর ঝুঁকি যাচা্ছে, তাঁরা আসনটি অভ্যাস করলে উপকার পাবেন।
আসনটির নাম পূর্ণ উষ্ট্রাসন। রোজ সকালে অভ্যাস করলে শরীরের ভারসাম্য বাড়বে। ফুসফুসও ভাল থাকবে।
কী ভাবে করবেন?
১) প্রথমে ম্যাটের উপর হাঁটু মুড়ে বসুন। বজ্রাসনের ভঙ্গিতে বসতে হবে।
২) এ বার পিছনের দিকে খানিকটা হেলে হাত দু’টি দিয়ে গোড়ালি ধরুন।
৩) মাথা পিছনের দিকে ঝুলিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে পেটের অংশটা সামনের দিকে এগিয়ে দিন।
৪) পায়ের পাতা মাটিতে থাকবে। দুই হাত টানটান থাকবে। স্বাভাবিক ভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে হবে।
৫) এই ভঙ্গিতে ২০ সেকেন্ড থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
উপকারিতা:
পূর্ণ উষ্ট্রাসন অভ্যাসে শরীরের ভারসাম্য বাড়বে। হাঁটাচলার সময়ে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকবে না।
ফুসফুস ভাল থাকবে। হাঁপানি, সিওপিডির রোগীদের জন্যও আসনটি উপকারী।
নিয়মিত অভ্যাসে পেটের মেদ কমবে।
হজমশক্তির উন্নতি হবে, গ্যাসের সমস্যা কমে যাবে।
ঋতুকালীন সময়ে পেটের তীব্র যন্ত্রণায় যাঁরা ভোগেন, তাঁরা আসনটি অভ্যাস করলে উপকার পাবেন।
কারা করবেন না
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে আসনটি করবেন না।
হার্নিয়ার সমস্যা থাকলে আসনটি না করাই ভাল।