Uttar Pradesh

‘আরে এ আমাদের লোক’! বিয়ে করতে আসা ‘পাত্র’কে চিনে ফেলল বৃহন্নলার দল, ধুন্ধুমার কাণ্ড কনেবিদায়ের সময়

উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকিতে শুক্রবার রাতে একটি বিয়ের আসর বসেছিল। বিয়ের সব আচার-অনুষ্ঠানও সম্পন্ন হয়েছিল রীতি মেনে। কিন্তু কনেবিদায়ের কিছু ক্ষণ আগে ২২ বছর বয়সি বরের বিরুদ্ধে বৃহন্নলা সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে!

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০০
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

ধুমধাম করে বসেছিল বিয়ের আসর। বিয়েবাড়ি উপলক্ষে বিশাল মঞ্চ বাঁধা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকির একটি গ্রামে। চারদিকে ছিল আলোর রোশনাই। কিন্তু বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আনন্দ উৎসব পরিণত হল বিষাদে। পাত্রের সত্যি প্রকাশ্যে আসতেই বিয়ে ভাঙলেন পাত্রী। কনেকে ছেড়ে খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হল পাত্রপক্ষকে। কিন্তু কী এমন হয়েছিল যে বরের সঙ্গে বিয়ে ভেঙে দিলেন কনে?

Advertisement

উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকিতে শুক্রবার রাতে ওই বিয়ের আসর বসেছিল। বিয়ের সব আচার-অনুষ্ঠানও সম্পন্ন হয়েছিল রীতি মেনে। কিন্তু কনেবিদায়ের কিছু ক্ষণ আগে ২২ বছর বয়সি বরের বিরুদ্ধে বৃহন্নলা সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে!

স্থানীয় সূত্রে খবর, ২২ বছর বয়সি পাত্রের নাম রিশু। মাস ছয়েক আগে বারাবাঁকির গণাই গ্রামের বাসিন্দা রিশুর সঙ্গে স্থানীয় এক তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়। গত শুক্রবার বিয়ের আসর বসে গণাই গ্রামে। ব্যান্ড বাজিয়ে কনের পরিবারের পক্ষ থেকে জমকালো স্বাগত জানানো হয় পাত্রের পরিবারকে। উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। রীতি মেনে মালাবদল, সাত পাক ঘোরা— সব অনুষ্ঠানই সম্পন্ন হয়। রাতের খাবার খেয়ে বিদায় নেন আগত অতিথিরা।

Advertisement

ভোর ৪টের দিকে যখন কনেবিদায়ের প্রস্তুতি চলছিল, তখন কাদোপুর এলাকা থেকে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয় একদল বৃহন্নলা। উত্তর ভারতে বিয়ের পর বৃহন্নলাদের উপহার বা ‘নেগ’ দেওয়ার চল রয়েছে। কিন্তু ওই বিয়েবাড়িতে এসে বৃহন্নলাদের কয়েক জন বরকে দেখে বিস্মিত হয়ে যান। তাঁরা দাবি করেন, পাত্র রিশুও বৃহন্নলা সমাজের অংশ এবং আগে তাঁদের দলেরই অংশ ছিলেন। এর পরেই বিয়েবাড়ির পরিবেশ নাটকীয় ভাবে বদলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বরের পরিবার বৃহন্নলাদের দ্রুত ২৩,০০০ টাকা হস্তান্তর করে এবং চুপ থাকতে বলে।

অন্য দিকে কনের আত্মীয়েরা পাত্রকে নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন এবং যাচাইয়ের জন্য ঘরের ভেতরে যেতে বলেন। কিন্তু রাজি হননি রিশু। এর পরেই বিয়েবাড়িতে হট্টগোল শুরু হয়। রিশুকে আটক করে কনের আত্মীয়েরা। পুলিশেও খবর দেওয়া হয়। তবে খবর, শেষ পর্যন্ত সামাজিক সংবেদনশীলতার কারণে রিশু বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। আলোচনার পর পাত্রপক্ষ বিয়ের খরচ মেটাতে রাজি হয় বলেও খবর। তবে কনে ছাড়াই বাড়ি ফিরতে হয় পাত্রের পরিবারের সদস্যদের।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশের বুকে। হইচই পড়েছে সমাজমাধ্যমেও। মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন নেটাগরিকেরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement