• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ভারতের বৃহত্তম ঋণদান বাংলাদেশকে

India and Bangladesh Ministers
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। ঢাকায়, বুধবার।-নিজস্ব চিত্র।
ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেই দু’দেশের মধ্যে আজ ৩৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি (বাংলাদেশি মুদ্রায়) ঋণ চুক্তি হয়েছে, বললেন বাংলাদেশ সফররত ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। জেটলি জানান, এটিই কোনও দেশকে ভারতের দেওয়া সর্বোচ্চ ঋণ সহায়তা।
বুধবার ঢাকায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ ও ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত ‘ভারত সরকারের ম্যাক্রো ইকোনমিক উদ্যোগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জেটলি এ কথা বলেন।
এর আগে ঢাকার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রকের দফতরে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে অরুণ জেটলির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। সই হয় সাড়ে চারশো কোটি ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি) ঋণচুক্তি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই হচ্ছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণগ্রহণ চুক্তি। এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সঙ্গে ১ হাজার ১৩৮ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ।
ভারতের দেওয়া ৪৫০ কোটি ডলার দিয়ে ১৭টি প্রকল্প করার জন্য একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে বাংলাদেশ (তবে ঋণচুক্তিতে কোনও প্রকল্পের নাম উল্লেখ থাকছে না বলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বা ইআরডি সূত্রে জানা গিয়েছে)। প্রকল্পগুলো হল- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, পায়রা বন্দরের বহুমুখী টার্মিনাল নির্মাণ, মোংলা বন্দর উন্নয়ন, বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার ও তীর সংরক্ষণ, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত দ্বৈতগেজ রেলপথ নির্মাণ, সৈয়দপুর বিমানবন্দর উন্নতকরণ, বেনাপোল-যশোর-ভাটিয়াপাড়া-ভাঙ্গা সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা, ঈশ্বরদীতে কনটেনার ডিপো নির্মাণ, চট্টগ্রামে কনটেনার টার্মিনাল নির্মাণ, কাটিহার-পার্বতীপুর-বরনগর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন তৈরি, চট্টগ্রামে ড্রাই ডক নির্মাণ, মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট থেকে রামগড় পর্যন্ত চার লেনে সড়ক উন্নীত করা, মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, মোল্লাহাটে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর হয়ে সরাইল পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে এ লাখ এলইডি বাল্ব সরবরাহ প্রকল্প।
ভারতের তৃতীয় এলওসি-র এই অর্থের জন্য বছরে এক শতাংশ হারে সুদ আর প্রতিশ্রুতি মাশুল আধা শতাংশ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। 

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি
ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি পরে হাই কমিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের শিকড় এক। দুই দেশের চ্যালেঞ্জও এক। দুই দেশের সম্পর্ক আজ এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে যে, ভারত আজ তৃতীয়বারের মতো ঋণ দিতে যাচ্ছে। যা সম্ভব হয়েছে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণেই। আর এই দুই দেশের সম্পর্কের মাত্রা যে কোন পর্যায়ে আছে প্রতি বছর দেড় মিলিয়ন (১৫ লক্ষ) মানুষের ভিসাপ্রাপ্তিই তা প্রমাণ করে। ভবিষ্যতেও এ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।”
ভারতের অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারতের প্রধান উদ্দেশ্য এখন ক্যাশলেস ডিরেকশনে যাওয়া। যদিও এটি ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ, কেননা এটি একটি ক্যাশভিত্তিক দেশ। নরেন্দ্র মোদী সরকার এসেই ক্যাশলেস অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা শুরু করে। দেশের ৪২ শতাংশ ব্যাঙ্কই এর বাইরে ছিল। তাদের ক্যাশলেস সিস্টেমের আওতায় আনা হচ্ছে। এজন্য বেসরকারি ব্যাঙ্ক বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
অরুণ জেটলি বলেন, প্রতিটি পরিবার যেন একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে সেজন্য ৩০ কোটি পারিবারিক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যার ৭৮ শতাংশ জিরো ব্যালান্সে। এটি ভর্তুকি দিয়েই শুরু হয়েছে।
জেটলি বলেন, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ থেকে শুরু করে বেনামি সম্পদ কেনাবেচার মতো বেআইনি কাজকর্ম হয় নগদ টাকায়। নগদ টাকার দিন শেষ হলে এই সব লেনদেন বন্ধ হবে। পরিবর্তিত ব্যবস্থায় আপনার কাছে যা আছে সবই ঘোষণা করতে হবে, ব্যাঙ্কের মাধ্যমে লেনদেন করতে হবে, বলেন জেটলি।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন