×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৮ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

প্রশ্নের মুখে ব্যাঙ্কের পরিকাঠামোও

আধার তথ্য যাচাই নিয়ে বহাল ধন্দ

প্রজ্ঞানন্দ চৌধুরী
কলকাতা১২ নভেম্বর ২০১৭ ০১:৫৮
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে জুড়তে হচ্ছে আধার নম্বর। অনেক গ্রাহক তা করেওছেন। কিন্তু তার পরেও ওই আধার তথ্য যাচাই (ভেরিফিকেশন) নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি এখনও। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্তির ‘মেসেজ’ পাওয়ার পরেও তথ্য যাচাইয়ের জন্য তাঁদের ছুটতে হচ্ছে ব্যাঙ্কের শাখায়। আবার অনেকের প্রশ্ন, মোবাইলেই ওই কাজ সারা যাবে না কেন? দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে পদ্ধতি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তাদের মধ্যেই। কোথাও আবার তৈরি নেই প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো। ফলে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে বিশেষত বয়স্ক ও অসুস্থ গ্রাহকদের।

ধোঁয়াশা রয়েছে বলেই আধার তথ্য যাচাই নিয়ে এক-এক রকম কথা বলছে এক-একটি ব্যাঙ্ক। যেমন, ইউকো ব্যাঙ্ক তাদের এক কোটিরও বেশি গ্রাহককে বলেছে শাখায় এসে আঙুলের ছাপ দিতে। কিন্তু উল্টো দিকে, স্টেট ব্যাঙ্ক, ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক, এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক-সহ বেশ কিছু ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, তথ্য যাচাইয়ের এটিই একমাত্র রাস্তা নয়। তা করা যায় সশরীরে হাজিরা না দিয়েও।

স্টেট ব্যাঙ্কের ডেপুটি এমডি নীরজ ব্যাস এবং ইউনাইটেড ব্যাঙ্কের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন্স) বিনয় গানধোরতা জানান, শাখায় না এসেও আধার ভেরিফিকেশনের দু’টি ব্যবস্থা আছে। সেগুলি হল— ডেমোগ্রাফিক অথেন্টিসিটি সিস্টেম এবং মোবাইলে ওটিপি পাঠানো। তাঁদের মতে, ওই দুই পথে আধার কার্ডের তথ্য ব্যাঙ্কের কাছে গ্রাহকের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে না-মিললে, তবেই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে (আঙুলের ছাপ ইত্যাদি) তা যাচাইয়ের জন্য শাখায় ডাকার কথা।

Advertisement

তা হলে ইউকো ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের শাখায় ডাকছে কেন? ব্যাঙ্কটির জেনারেল ম্যানেজার (ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন) অরবিন্দ মিশ্র বলেন, ‘‘আমাদের ব্যাঙ্কে এখনও ওটিপি-র মাধ্যমে যাচাইয়ের পরিকাঠামো তৈরি হয়নি। চেষ্টা চলছে। তবে চালু হতে প্রায় মাসখানেক লাগবে।’’ আর শাখায় না-এসে তথ্য যাচাইয়ের অন্য পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই ৭৩ লক্ষ গ্রাহকের ডেমোগ্রাফিক অথেন্টিসিটি ভেরিফিকেশন হয়েছে। তবে ১.১০ কোটি গ্রাহককে শাখায় এসে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থায় তা করতে বলা হয়েছে।

অরবিন্দবাবুর বক্তব্য, ‘‘প্রথম পদ্ধতিতে তথ্য না-মিললে, তখন গ্রাহককে শাখায় আসতে হবে। তাই ঝামেলা এড়াতে সরাসরি তা করার কথা বলেছি। তা ছাড়া, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার তাড়াও রয়েছে।’’

কিন্তু কিছু গ্রাহকের অভিযোগ, আগে আধার ‘লিঙ্ক’ হওয়ার ‘মেসেজ’ পাওয়া সত্ত্বেও এখন শাখায় ডাক পড়ছে তাঁদের। বিশেষজ্ঞদের অনেকের প্রশ্ন, তা হলে ৭৩ লক্ষ গ্রাহকের ক্ষেত্রে তা করা হল কী ভাবে? সকলকে শাখায় ডেকে তথ্য যাচাই বেশি সময়সাপেক্ষ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

বিনয়বাবুর ব্যাখ্যা, গ্রাহক তাঁর আধার নথি জমা দেওয়ার পরেই ডেমোগ্রাফিক অথেন্টিসিটি যাচাইয়ের জন্য সার্ভারে পাঠানো হয়। সেখানে তথ্য মিলে গেলে, ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ। যদি না-মেলে, তাহলে ওটিপি পাঠানোর কথা। তাতেও কাজ না-হলে, তবে শাখায় ডাকার প্রশ্ন। একই কথা বলছেন ব্যাস। শাখায় হাজিরা দিয়েই যাচাই করতে হবে, এমন বলেনি কেন্দ্র কিংবা রিজার্ভ ব্যাঙ্কও।

ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন আইবকের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দাস এবং এলাহাবাদ ব্যাঙ্কের অফিসার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তপন সরকারের মতে, ‘‘এটা অনেকটা ধরে আনতে বললে বেঁধে আনার মতো। এতে অযথা হয়রান হতে হচ্ছে গ্রাহকদেরই।’’

পদ্ধতি

• গ্রাহক আধার নথি জমা দিলে, ব্যাঙ্কের তরফ থেকে তা যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয় আধার কর্তৃপক্ষের সার্ভারে। এই ‘ডেমোগ্রাফিক অথেন্টিসিটি’ যাচাইয়ে তাই ব্যাঙ্কের শাখায় হাজিরার প্রয়োজন নেই। এখানে কোনও তথ্য মেলায় সমস্যা না-হলে, অ্যাকাউন্টে আধার নম্বর যোগে ঝঞ্ঝাট নেই।

• কোনও কারণে সে ক্ষেত্রে সমস্যা হলে, গ্রাহকের মোবাইলে এক বার ব্যবহারের উপযোগী পাসওয়ার্ড (ওটিপি) পাঠিয়েও তা করা সম্ভব। এখানেও ব্যাঙ্কে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে শর্ত হল, আধারের সঙ্গে মোবাইল নম্বর যুক্ত থাকতে হবে।

• এর কোনওটিতেই না-হলে, তখন অবশ্য গ্রাহককে সশরীরে হাজির হতেই হবে ব্যাঙ্কে।

ধোঁয়াশা

• ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং আধার নম্বর সংযুক্তির ‘মেসেজ’ পাওয়ার পরেও আধার তথ্য যাচাইয়ের (ভেরিফিকেশন) জন্য অনেককে আসতে বলা হচ্ছে ব্যাঙ্কের শাখায়

• অনেকে ওটিপি মারফত দুই নম্বর যোগ করতে চেয়েও সেই সুযোগ পাচ্ছেন না

• কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে তার উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরিই নেই ব্যাঙ্কের



Tags:
Bank Accountআধার নম্বর Aadhaar Card Aadhaar Number

Advertisement