বিরোধীদের অভিযোগ, দেশের আর্থিক বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসংস্থান হচ্ছে না। তা মানতে নারাজ নরেন্দ্র মোদী সরকার। তবে লোকসভা ভোটের সাত দিন আগে নীতি আয়োগ কার্যত মেনে নিল, বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজের সুযোগ তৈরির চ্যালেঞ্জই এ বারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ইসু। 

হোটেল শিল্পে লগ্নি নিয়ে এক সভায় বুধবার কর্মসংস্থানের চাহিদার প্রসঙ্গ তোলেন নীতি আয়োগের সিইও অমিতাভ কান্ত। তাঁর কথায়, ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কর্মসংস্থান। এখন নির্বাচনের সময়ে সকলেই সেই  কথা বলছেন। পর্যটন ও পরিষেবা শিল্পই একমাত্র পারে ভাল কাজের সুযোগ তৈরি করতে। যদিও তাঁর দাবি, দেশে কাজ তৈরি হয়েছে। তবে কর্মীদের বেতন ও কাজের মান এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। সে ক্ষেত্রেও এই দুই শিল্প সমাধান হতে পারে। 

উল্লেখ্য, মোদী সরকারকে প্রায় নিয়মিত কর্মসংস্থানের ইসুতে বিঁধছেন বিরোধীরা। তাঁদের হাতিয়ার এ নিয়ে সাম্প্রতিক প্রকাশিত ও ফাঁস হওয়া একগুচ্ছ রিপোর্ট। এনএসএসও-র ফাঁস হওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ সালে দেশে বেকারত্বের হার ৪৫ বছরে সর্বোচ্চ। সিএমআইই-র রিপোর্ট বলছে, গত বছর ১ কোটি মানুষের চাকরি গিয়েছে। এমপ্লয়িজ স্টেট ইনশিওরেন্স কর্পোরেশনের তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের জানুয়ারির তুলনায় গত জানুয়ারিতে নতুন চাকরি কমেছে ৬.৯১%।  আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট ছিল, ২০১৮ সালে দেশে শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব ১৬%। প্রাক্তন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গভর্নর রঘুরাম রাজনেরও দাবি, ভারতে অন্যতম বড় সমস্যা চাকরি।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

তবে এ সব অভিযোগই নস্যাৎ করেছেন মন্ত্রী অরুণ জেটলি, রবিশঙ্কর প্রসাদ প্রমুখ। কেন্দ্রের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা কৃষ্ণমূর্তি সুব্রহ্মণ্যনেরও দাবি, পাঁচ বছরে অন্তত ৬ কোটি নতুন চাকরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই অবস্থায় ভোটের মুখে কান্তের কর্মসংস্থানকে ইসু বলা তাৎপর্যপূর্ণ।