• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ভারতে ‘বুলেট’ ছুটুক তাদের লাইনেই, বাজার খুঁজছে চিন

Indian Rail
ফাইল চিত্র
ওড়িশায় বিজেপি-র কর্মসমিতির বৈঠকের মাঝেই সোমবার দু’টি নতুন ট্রেন এবং বেশ কিছু নতুন রেল পরিষেবা চালু করলেন সুরেশ প্রভু।
 
বিশাখাপত্তনম থেকে আরাকু পর্যন্ত যে নতুন ট্রেন চালু হয়, সেই ট্রেনের ছাদ কাচের, আসনগুলি যেমন খুশি ঘোরানো যায় এবং এলইডি বাল্ব, জিপিএস ব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক পরিষেবা রয়েছে। ওই দিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিশাখাপত্তনমে লনড্রি মেশিনের উদ্বোধনও করেন রেলমন্ত্রী।
দ্রুত গতিতেই ভারতীয় রেল এগোচ্ছে উন্নততর প্রযুক্তিনির্ভরতার পথে। রেল লাইন পরিষ্কার রাখতে বায়ো টয়লেটের কথা ভাবা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রথম সারির স্টেশনগুলিতে ওয়াইফাই ব্যবস্থা চালু হয়ে গিয়েছে। ই-টিকিটে জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে, বুলেট ট্রেন এবং ফাস্ট ট্র্যাক লাইন বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে প্রায় তিমিরেই দাঁড়িয়ে ভারতীয় রেল। এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। 
কিন্তু পরিকল্পনা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেকখানি এগিয়ে রয়েছে চিন। কুয়ানজহো শহরই তার প্রমাণ। ফুজিয়ান প্রভিন্সের দক্ষিণ পূর্বের এই শহর ‘ন্যাশনাল পাইলট সিটি’ নামে পরিচিত। নরেন্দ্র মোদীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র মতো, চিনেও ‘মেড ইন চায়না ২০২৫’ মডেল শুরু হয়েছে। এই প্রোজেক্টের অন্তর্ভূক্ত কুয়ানজহো শহরে রেলের যে উন্নতি হয়েছে তা চোখে পড়ার মতো। চিনে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার হাই স্পিড লাইন পাতা হয়েছে। এই লাইনে ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন ছুটতে পারে। ২০২৫ সালের মধ্যে আরও ১৫ হাজার কিলোমিটার লাইন পাতার পরিকল্পনা রয়েছে চিনের। এই কাজ শেষ হলে, বিশ্বের যে কোনও দেশের থেকে হাই স্পিড রেলের বিস্তৃতিতে এগিয়ে থাকবে চিন।
 
ভারতের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নে জাপানকে টেক্কা দিয়ে চিন যে বাজার ধরতে চাইছে, তাদের বক্তব্যেই তা স্পষ্ট। প্রযুক্তিগত ভাবে তাঁদের থেকে জাপান এগিয়ে রয়েছে এ কথা স্বীকার করে পিপল ইনস্টিটিউট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট পেং কিউ বলেন, ‘‘প্রযুক্তিতে জাপান এগিয়ে থাকলেও, ভারতকে সস্তায় দ্রুতগামী বুলেট ট্রেন চালাতে সাহায্য করতে পারব আমরা।’’
 
চলতি বছরের মার্চে চিনের সরকারি সংবাদ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বুলেট ট্রেন নিয়ে ভারতের পছন্দের তালিকায় জাপান থাকলেও রেল পরিকাঠামোকে উন্নত করতে এবং হাই স্পিড লাইন তৈরিতে চিনের দিকেও ঝুঁকে রয়েছে তারা। ওই মিডিয়ার আরও দাবি, স্টিল রেল উত্পাদন ক্ষেত্রে ভারতের বেশি প্রয়োজন চিনকে।
গত দু’বছর ধরে ভারতীয় রেলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চিন সঙ্গে বেশ চুক্তি ইতিমধ্যেই করেছে। চিনে গিয়ে ভারী শিল্পের জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ভারতীয় ইঞ্জিনিয়াররা। এমনকী, ইতিমধ্যেই ভারতের বেশ কিছু রেল প্রোজেক্টের কাজ শুরু করেছে চিন। নাগপুরে মেট্রো রেলে চিনের সিআরসিসি কর্পোরেশন দায়িত্বে রয়েছে। ১০ বছর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে তারা। কলকাতার মেট্রোতে কোচ তৈরিতেও কাজ করছে চিন, বলে সূত্রের খবর।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন