আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের (আইএমএফ) প্রথম মহিলা মুখ্য অর্থনীতিবিদ হিসেবে নাম ঘোষণার সুবাদে দুনিয়া তাঁকে চিনেছিল গত অক্টোবরেই। এ বার ওই পদে দায়িত্ব নিলেন গীতা গোপীনাথ। রঘুরাম রাজনের পরে তিনিই ওই পদে প্রথম, যাঁর শিকড় ভারতে। স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষাও এ দেশে।

সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, এই দায়িত্ব ৪৭ বছরের গীতার হাতে এমন সময়ে এল, যখন মার্কিন-চিন শুল্ক যুদ্ধের হাত ধরে বাণিজ্যে রক্ষণশীলতার পাঁচিল তোলা নিয়ে তোলপাড় গোটা বিশ্ব। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতা নিজেও মানছেন সে কথা। বলেছেন, এই মুহূর্তে বিশ্বায়ন থেকে পিছু হটার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটাই আইএমএফের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

যদিও অর্থনীতিবিদ হিসেবে তাঁর শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের উপর যথেষ্ট আস্থা থাকার বার্তা আগেই দিয়েছেন আইএমএফের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্টিন ল্যাগার্দে। যে ল্যাগার্দেকে সারা দুনিয়ার মহিলাদের আদর্শ বলে মনে করেন গীতা নিজে।

২০১৬ সালে কেরলে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা থাকাকালীন গীতা বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সরকারের বেহিসেবি খরচের দিকে আঙুল তুলে। মোদী সরকারের নোট বাতিলের সমর্থক হিসেবেও কিছু মহলে কুড়িয়েছেন সমালোচনা। বিশেষত রাজনের মতো অনেকেই যেখানে নোটবন্দিকে ভারতীয় অর্থনীতির উপর বড় ধাক্কা বলে তোপ দেগেছেন।

এ হেন গীতার পাখির চোখ এখন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নীতির প্রশ্নে অর্থভাণ্ডারের নেতৃত্বের রাশ ধরে রাখা। আর সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে ডলারের মতো অন্যতম প্রধান মুদ্রার ভূমিকা সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। যাতে ডলারের জোগান কমে যাওয়ার বিপদ বুঝতে পারে সব দেশ।