দেশে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের বেহাল দশা নিয়ে যে অভিযোগ মোদী সরকারকে নাগাড়ে বিঁধছে, তা শুক্রবার ফের উস্‌কে দিল খোদ সরকারি হিসেব। কেন্দ্র প্রকাশিত পরিসংখ্যান জানাল, ০.১% ছুঁয়ে ফেব্রুয়ারিতে ২০ মাসের নীচে তলিয়ে গিয়েছে শিল্প বৃদ্ধি। আর সে জন্য দায়ী মূলত কল-কারখানায় উৎপাদন সরাসরি কমা। যা কর্মসংস্থান তৈরির অন্যতম ঘাঁটি। ফলে তার হার কমা কাজের বাজার ঝিমিয়ে থাকারই ইঙ্গিত। মাথা তোলার হার খুব বেশি না হলেও, এ দিন কেন্দ্রের অস্বস্তি বাড়িয়েছে খুচরো মূল্যবৃদ্ধিও। মার্চে তা ২.৮৬%। ফেব্রুয়ারির (২.৫৭%) থেকে বেশি। ইতিমধ্যেই যে মাসে চার মাসের সর্বোচ্চ ছিল ওই হার।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, চাঙ্গা অর্থনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসা নরেন্দ্র মোদী কি পাঁচ বছরে কথা রাখতে পারলেন? তা হলে শিল্পের এই হাল কেন? কেনই বা কমে গেল কল-কারখানার উৎপাদন? তা হলে কি চাহিদা একেবারেই তলানিতে ঠেকেছে? সম্প্রতি এক রিপোর্টে গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রেও ক্রেতার চাহিদা কমার বিষয়টি ধরা পড়েছে।

পরিসংখ্যানে দাবি, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় খুচরো মূল্যবৃদ্ধি মাথা তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বিশ্ব বাজারে যে ভাবে তেলের দাম বাড়ছে, তাতে আগামী দিনে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি আরও না বাড়ে!

একাংশের মতে, অর্থনীতি যে কেন্দ্রের চিন্তার বড় কারণ, তা ফের প্রমাণ হল। উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে উৎপাদন শিল্পের ০.৩% সঙ্কোচন। সেই সঙ্গে মূলধনী পণ্যের উৎপাদন ৮.৮% কমাও। আগের বছর একই সময়ে তা ১৬.৬% বেড়েছিল। মূলধনী পণ্য লাগে অন্য জিনিস তৈরিতে। তাই তার উৎপাদন কমা মানে ভবিষ্যতে কল-কারখানায় তৈরি পণ্য বিক্রিবাটা হওয়া নিয়ে শিল্পের আস্থাও কম থাকা।