মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ টানতে পারাকে হামেশাই নিজেদের অন্যতম সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে মোদী সরকার। ওই হার নিয়ন্ত্রণে থাকার বার্তা দিয়ে কিছু দিন আগে সুদ (রেপো রেট) কমিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কও। বৃদ্ধির রথের চাকায় গতি আনাই যার লক্ষ্য। অথচ খুচরোর পরে এ বার পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হারেও স্পষ্ট, ফের মাথা তুলছে পণ্যের দাম। সোমবার সরকারি পরিসংখ্যান জানিয়েছে, সার্বিক মূল্যবৃদ্ধি মার্চে দাঁড়িয়েছে ৩.১৮%। যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। মার্চে খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধিও কিছুটা বেড়ে হয়েছে ২.৮৬%। আর ওই ফেব্রুয়ারিতেই যে হার (২.৫৭%) ছিল চার মাসের সর্বাধিক।

তথ্য বলছে, গত মাসে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণেই মাথা তুলেছে সার্বিক মূল্যবৃদ্ধি। আনাজের মূল্যবৃদ্ধি আগের মাসের ৬.৮২% থেকে বেড়ে হয়েছে ২৮.১৩%। জ্বালানি প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৫.৪১%। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, তা হলে কি মোদী সরকারের জমানায় মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থেকেছে স্রেফ খাদ্যপণ্যের দাম তলানিতে থাকার জন্যই? যে কারণে ইতিমধ্যেই সারা দেশ দেখেছে কৃষক বিক্ষোভ! অনেকেই বলছেন, বিশ্ব বাজারে তেলের দর হালে ফের মাথা তুললেও, তা এখনও মাত্রাছাড়া হয়নি। ফলে তাঁদের প্রশ্ন, এখনই মূল্যবৃদ্ধি এ ভাবে বাড়তে থাকলে, ভবিষ্যতে তা নিয়ন্ত্রণে থাকবে তো?

দেশে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের বেহাল দশা নিয়ে যে অভিযোগ মোদী সরকারকে নাগাড়ে বিঁধছে, তা হালে বারবার আরও উস্‌কে দিচ্ছে খোদ সরকারি হিসেব। এর আগে কেন্দ্রের হিসেবই জানিয়েছে, ০.১% ছুঁয়ে ফেব্রুয়ারিতে ২০ মাসের নীচে তলিয়ে গিয়েছে শিল্প বৃদ্ধি। আর সে জন্য দায়ী মূলত কল-কারখানায় উৎপাদন সরাসরি কমা। যা কর্মসংস্থান তৈরির অন্যতম ঘাঁটি। উৎপাদন শিল্প সঙ্কুচিত হয়েছে ০.৩%। মূলধনী পণ্য উৎপাদন সরাসরি ৮.৮% কমেছে। যে পণ্য ব্যবহৃত হয় অন্য জিনিস তৈরিতে। ফলে তার উৎপাদন কমা মানে, ভবিষ্যতে কল-কারখানায় তৈরি পণ্য বিক্রি হওয়া নিয়ে শিল্পের আস্থাও কম থাকা। আর এ বার কেন্দ্রের অস্বস্তি বাড়ল পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির ম্লান ছবি।

একাংশের মতে, অর্থনীতি যে মোদী সরকারের চিন্তার বড় কারণ, তা ফের প্রমাণ হল এই সব পরিসংখ্যানে। প্রশ্ন উঠছে, চাঙ্গা অর্থনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মসনদে আসা নরেন্দ্র মোদী কি পাঁচ বছরে কথা রাখতে পারলেন? তা হলে অর্থনীতির এই হাল কেন? তা হলে কি চাহিদা একেবারেই তলানিতে? তবে সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এখনও।