Advertisement
E-Paper

ডিবিএস ইন্ডিয়া ব্যাঙ্কেই মিশছে লক্ষ্মীবিলাস ব্যাঙ্ক

বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, মোদী সরকারের আমলে আর্থিক স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে একের পর এক ব্যাঙ্কের। ইয়েস ব্যাঙ্কে তৈরি হওয়া সঙ্কট সামাল দিতে সম্প্রতি তার ৪৫% শেয়ার কিনতে হয়েছে স্টেট ব্যাঙ্ককে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২০ ০৫:২৬
ফাইল চিত্র।

ফাইল চিত্র।

আর্থিক স্বাস্থ্য বিগড়ে সঙ্কটে পড়া লক্ষ্মীবিলাস ব্যাঙ্ক শেষমেশ ডিবিএস ব্যাঙ্কের ভারতীয় শাখার সঙ্গেই মিশে যাচ্ছে বলে ঘোষণা করল কেন্দ্র। বুধবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কেরও ঘোষণা, এই প্রক্রিয়া কার্যকর হবে ২৭ নভেম্বর থেকে। ওই দিন থেকেই তুলে দেওয়া হবে গ্রাহকের টাকা তোলায় বিধিনিষেধ।

এ দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর। তাঁর দাবি, “(লক্ষ্মীবিলাস ব্যাঙ্কের) কোনও গ্রাহক চাইলে টাকা তুলে নিতেই পারেন। কিন্তু সেই দৌড়াদৌড়ির প্রয়োজন হবে না। কারণ, যে ব্যাঙ্কের সঙ্গে লক্ষ্মীবিলাস ব্যাঙ্ককে মেশানো হচ্ছে, তাদের হিসেবের খাতা স্বচ্ছ। পোক্ত আর্থিক ভিতও। তাই এর দরুন লক্ষ্মীবিলাস ব্যাঙ্কের ২০ লক্ষ আমানতকারীর ২০ হাজার কোটি টাকা সুরক্ষিত থাকবে। একই ভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন ৪০০০ কর্মীর প্রত্যেকে। কাউকে ছাঁটাইয়ের প্রশ্ন নেই।” তবে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে নজরদারিতে কড়াকড়ি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। দাবি করেছেন, যাঁদের ভুল পরিচালনার মাসুল গুনে ব্যাঙ্কে সঙ্কট ঘনিয়েছে, কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে তাঁদের।

বিপুল অনুৎপাদক সম্পদ এবং পরিচালনায় গলদের কারণে আর্থিক স্বাস্থ্য দ্রুত বিগড়াতে দেখে ১৭ নভেম্বর রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশ মেনে লক্ষ্মীবিলাস ব্যাঙ্ককে ৩০ দিনের জন্য বিধিনিষেধের আওতায় আনার কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। জানিয়েছিল, এই সময়ের মধ্যে ২৫ হাজার টাকার বেশি তুলতে পারবেন না ওই ব্যাঙ্কের কোনও গ্রাহক। জরুরি কারণে তা করতে গেলেও শীর্ষ ব্যাঙ্কের অনুমতি লাগবে। সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাঙ্কের ভারতীয় শাখার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার কথাও শোনা গিয়েছিল তখনই। এ দিন সেই প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করা হল ১৯২৬ সালে তৈরি ব্যাঙ্কটির ডিবিএস ব্যাঙ্কের ভারতীয় শাখায় মিশে যাওয়ার। শেয়ার মূলধন হিসেবে ২৫০০ কোটি টাকা ঢালবে ডিবিএস ব্যাঙ্ক ইন্ডিয়া।

ঘোষণা

• ডিবিএস ব্যাঙ্কের ভারতীয় শাখার সঙ্গে মিশছে লক্ষ্মীবিলাস ব্যাঙ্ক।
• পরিকল্পনা কার্যকর হবে ২৭ নভেম্বর থেকে। টাকা তোলায় বিধিনিষেধও ফিরিয়ে নেওয়া হবে
ওই দিনই।
• সুরক্ষিত থাকবে ২০ লক্ষ আমানতকারীর সঞ্চয়ের ২০ হাজার কোটি টাকা।
• চাকরি ছাঁটাই নয়। একই ভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন বেসরকারি ব্যাঙ্কটির
৪০০০ কর্মী।
• ব্যাঙ্কে এমন সঙ্কট তৈরির জন্য শাস্তির মুখে পড়তে পারেন পরিচালনকারীরা।

আপত্তি

• কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বদলে একটি বিদেশি ব্যাঙ্কের সঙ্গে মেশানোর সিদ্ধান্ত কেন?
• ইয়েস ব্যাঙ্ক, লক্ষ্মীবিলাস ব্যাঙ্কের সঙ্কট দেখার
পরেও কী করে ভাবা
হচ্ছে কর্পোরেট সংস্থাকে ব্যাঙ্ক খোলার ছাড়পত্র দেওয়ার কথা?

বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, মোদী সরকারের আমলে আর্থিক স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে একের পর এক ব্যাঙ্কের। ইয়েস ব্যাঙ্কে তৈরি হওয়া সঙ্কট সামাল দিতে সম্প্রতি তার ৪৫% শেয়ার কিনতে হয়েছে স্টেট ব্যাঙ্ককে। তার জন্য ৭২৫০ কোটি ঢেলেছে ওই সরকারি ব্যাঙ্ক। এ বার লক্ষ্মীবিলাস ব্যাঙ্ককে বাঁচানোর পালা। ফারাক হল, এই প্রথম কোনও ব্যাঙ্কের সঙ্কটমুক্তির জন্য তাকে মিশে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে বিদেশি ব্যাঙ্কের সঙ্গে। ব্যাঙ্কিং শিল্পের একাংশের প্রশ্ন, হঠাৎ বিদেশি ব্যাঙ্ক কেন? এ ভাবে বিদেশি ব্যাঙ্ককে জমি ছাড়া নিয়ে আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অফিসারদের সংগঠন আইবক।

Laxmi Vilas Bank DBS Bank merging
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy