বিশ্বে তেলের জোগান যথেষ্ট বলে রবিবার ফের দাবি করল তেল রফতানিকারীদের সংগঠনের অন্যতম সদস্য সৌদি আরব। ইরান ও ভেনেজুয়েলায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সৌদির তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার প্রেক্ষিতে আজ এখানে বৈঠকে বসেছিল ওপেক এবং রাশিয়ার মতো তাদের সহযোগী দেশগুলি। তার আগে সৌদি তেলমন্ত্রী খালিদ আল-ফলিহ্‌ বলেন, তেলের জোগান ভাল। তা আরও বাড়ছে। ফলে মজুত ভাণ্ডার কমানোর দিকেই এখন মন দেওয়া উচিত। জুনে তেলের উত্তোলন বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনায় বসবে ওপেক। সেই সময়ে তাঁদের হাতে বিশ্বে তেলের চাহিদা ও জোগানের আরও ভাল পরিসংখ্যান থাকবে বলেও জানান তিনি। ড্রোন হামলার পরে দেশের তেলের ভাণ্ডার সুরক্ষিত বলেও দাবি তাঁর। উল্লেখ্য, রবিবারের বৈঠকে ইরান যোগ দেয়নি। তবে জুনের বৈঠকে তারাও আলোচনায় থাকবে।

অশোধিত তেলের দর কমায় জানুয়ারি থেকে দিনে ১২ লক্ষ ব্যারেল ছাঁটাই উত্তোলন ছাঁটাই করেছে ওপেক। তার মধ্যেই প্রথমে ইরানের তেল আমদানিতে আট দেশকে দেওয়া ছাড় তুলেছে আমেরিকা। নতুন করে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে ভেনেজুয়েলার তেলেও। এই পরিস্থিতিতে সৌদির মতো ওপেকের অন্যতম সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহিরও দাবি, এখন যা উত্তোলন করা হচ্ছে, তা দিয়েই চাহিদা পূরণ করা যাবে। দেশের তেলমন্ত্রী সুহেল আল-মাজ়রুয়েই বলেন, তাই এখন উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত বদলানো ঠিক হবে না। জোগান বাড়িয়ে তেলের দরে ধস নামুক, তাঁরা তা চান না বলেও জানান তিনি।

ইরানের নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পরেই ওপেককে তেল উত্তোলন বাড়াতে আর্জি জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্রের খবর, ওপেকের সহযোগী রাশিয়া জুনের পরে উত্তোলন বাড়াতে আগ্রহী। কিন্তু সৌদি চায় তেলের দর ব্যারেলে ৭০ ডলারের আশেপাশেই থাকুক। অনেকে বলছেন, কয়েক বছর আগে দর ব্যারেলে প্রায় ২০ ডলারে নামায় ধাক্কা লেগেছিল রিয়াধের অর্থনীতিতে। সেই অবস্থা যাতে না হয়, তা-ই নিশ্চিত করতে চায় তারা। সে ক্ষেত্রে ঘাটতিতে রাশ টেনে অর্থনীতি সামলাতে রাশিয়াকে ওপেকের সঙ্গে রাখা তাদের পক্ষে জরুরি বলেই দাবি ওই সূত্রের।