Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৯ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

আমেরিকায় সুদ বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে দুশ্চিন্তা

দেড় মাসে সবচেয়ে বেশি পড়ল সেনসেক্স, নিফটি

সংবাদ সংস্থা
মুম্বই ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০১:৫৬

আমেরিকা সুদের হার তড়িঘড়ি বাড়িয়ে দিতে পারে, এই আশঙ্কা ক্রমেই গ্রাস করছে এশীয় শেয়ার বাজারকে। তার প্রভাবেই মঙ্গলবার গত দেড় মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পতন হয় সেনসেক্স, নিফটি-র। শেয়ার বিক্রির হিড়িকে এ দিন সেনসেক্স পড়ে যায় ৩২৪ পয়েন্ট, নিফটি ১০৯ পয়েন্ট। ডলারের তুলনায় টাকার দাম অবশ্য এ দিন বেড়েছে। রফতানিকারীদের ডলার বিক্রির জেরেই এ দিন বাজার বন্ধের সময়ে প্রতি ডলারের দাম ৮ পয়সা কমে দাঁড়িয়েছে ৬১.০৫ টাকা।

বাজার সূত্রের খবর, এ দিন ভারতে শেয়ার সূচকের পতনের আর একটি বড় কারণ উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানের মতো রাজ্যে বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি-র খারাপ ফল। ওই সব রাজ্যে লোকলভা ভোটে বিজেপি-র ব্যাপক সাফল্যের অল্প দিনের মধ্যেই তাদের এই হারের খবরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন লগ্নিকারীরা। আগামী মাসে নির্ধারিত উপনির্বাচনগুলিতেও বিজেপি ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে শেয়ার বাজার। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যতে বাজার আরও পড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরাও। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই লাভের টাকা ঘরে তুলতে এ দিন হাতের শেয়ার বেচে দেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। ফলে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের ১২টি ক্ষেত্রের সূচকের সব ক’টিই এ দিন পড়ে যায়।

বিক্রির চাপে বাজার বন্ধের সময়ে সেনসেক্স কমে দাঁড়ায় ২৬,৪৯২.৫১ পয়েন্টে, যা গত তিন সপ্তাহে সর্বনিম্ন। সোমবারের থেকে তা ৩২৪ পয়েন্ট বা ১.২১ শতাংশ কম। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফ্টি ১০৯ পয়েন্ট কমে নেমে আসে ৮ হাজারের নীচে, প্রায় ৭,৯৩৩ পয়েন্টে। ছোট-মাঝারি মূলধনের সংস্থার শেয়ার দর পড়েছে বিপুল পরিমাণে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের সূচকও পড়ে যায় ৩%।

Advertisement

প্রসঙ্গত, সোমবার থেকেই আর্থিক নীতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে বৈঠকে বসেছে মার্কিন শীর্ষ ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ। মন্দার কবল থেকে অর্থনীতিকে টেনে তুলতে তারা তলানিতে বেঁধে রাখা সুদের হার এ বার বাড়াতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। দু’দিনের এই বৈঠকেই মার্কিন শীর্ষ ব্যাঙ্কের চেয়ারপার্সন জ্যানেট ইয়েলেন এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সে ক্ষেত্রে দীর্ঘ ৮ বছর বাদে সুদের হার বাড়বে আমেরিকায়। অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোয় এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে মার্কিন শীর্ষ ব্যাঙ্ক। তবে সে ক্ষেত্রে বিদেশি আর্থিক সংস্থাগুলি ভারতের শেয়ার বাজারে লগ্নিতে আর ততটা উৎসাহী না-ও হতে পারে। নিজেদের দেশেই সুদ বাড়লে তারা ভারতের বাজার থেকে লগ্নি তুলে নিতে পারে। অথচ, ভারতের বাজারের উত্থানের পিছনে দীর্ঘ দিন ধরেই বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলি মূল চালিকাশক্তি বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ফলে অচিরেই বাজার আরও পড়ার আশঙ্কায় এ দিন শেয়ার বেচে মুনাফা ঘরে তোলার হিড়িক পড়ে যায় মুম্বই বাজারে।

আরও পড়ুন

Advertisement