Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

২৬ হাজারের দরজায় সেনসেক্স

বাজেট নিয়ে শেয়ার বাজারের প্রত্যাশা তুঙ্গে। তাই তার আগে রকেটের গতিতে উঠছে সেনসেক্স। শুক্রবার, সপ্তাহের শেষ লেনদেনের দিনে তা আরও ১৩৮ পয়েন্ট উঠ

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ০৫ জুলাই ২০১৪ ০৩:১৮

বাজেট নিয়ে শেয়ার বাজারের প্রত্যাশা তুঙ্গে। তাই তার আগে রকেটের গতিতে উঠছে সেনসেক্স। শুক্রবার, সপ্তাহের শেষ লেনদেনের দিনে তা আরও ১৩৮ পয়েন্ট উঠে পৌঁছে গেল ২৬ হাজারের দরজায়। নতুন উচ্চতায় ওঠার রেকর্ড তৈরি করল ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফ্টি-ও।

শুধু চলতি সপ্তাহের পাঁচ দিনের লেনদেনেই সেনসেক্স উঠেছে মোট ৮৬২.১৪ পয়েন্ট। বৃহস্পতিবারই লেনদেন চলাকালীন ওই সূচক ছুঁয়ে ফেলেছিল ২৫,৯৯৯ অঙ্ক। কিন্তু তার পর তাল কেটেছিল প্রযুক্তি বিভ্রাটে। নেটওয়ার্কে সমস্যার কারণে তিন ঘণ্টারও বেশি বন্ধ ছিল শেয়ার কেনা-বেচা। তার পর ফের লেনদেন চালু হলেও সেনসেক্স নেমেছিল ১৭ পয়েন্ট। কিন্তু সেই সামান্য পতনের রেশ কাটিয়ে শুক্রবার ফের ১৩৮.৩১ পয়েন্ট উঠল সূচক। থিতু হল ২৫,৯৬২.০৬ অঙ্কে। বাজার বন্ধের সময়কার উচ্চতা অনুযায়ী যা সর্বকালীন রেকর্ড। নতুন নজির গড়ল নিফ্টি-ও। এ দিনের ৩৬.৮০ পয়েন্ট উত্থানের দৌলতে ওই সূচক পৌঁছে গেল ৭,৭৫১.৬০ অঙ্কে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের এই উত্থানের মূল কারণ, বাজেট নিয়ে আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা। তাঁরা মনে করছেন, বাজেটে নরেন্দ্র মোদীর সেনাপতি অরুণ জেটলি শুধু জনমোহিনী বাজেটের দিকে ঝুঁকবেন না। বরং তাতে দিগ্নির্দেশ থাকবে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার। তা ছাড়া, রেলের হাল ফেরাতে কেন্দ্র যে ভাবে ভাড়া বাড়ানোর মতো অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিংবা জ্বালানিতে ভর্তুকি ছাঁটাইয়ের কথা বলছে, তা-ও যথেষ্ট ভরসা জুগিয়েছে শেয়ার বাজারকে। যেমন, এ দিনই শোনা যাচ্ছিল রান্নার গ্যাসের ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের দাম ২৫০ টাকা এবং কেরোসিনের দর লিটারে ৪ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ খতিয়ে দেখতে পারে মন্ত্রিসভার রাজনীতি বিষয়ক কমিটি। তার জেরে শেয়ার দরও বেড়েছে ওএনজিসি, রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের মতো তেল এবং গ্যাস সংস্থাগুলির। শেষ পর্যন্ত কমিটি তা আপাতত না-করলেও, স্বেচ্ছায় ভর্তুকি ছাড়ার ডাক দিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।

Advertisement

তার উপর অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এ দিন বলেছেন, বর্ষা সবে এসেছে। তাই খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়া নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। একই সঙ্গে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ টানতে মজুতদারদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থমন্ত্রীর এই জোড়া আশ্বাস খুশি করেছে শেয়ার বাজারকে। সূচকের উত্থানে ইন্ধন জুগিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজারের তেজি হয়ে ওঠাও। আমেরিকায় কর্ম সংস্থান বৃদ্ধির হার প্রত্যাশা ছাপিয়েছে। অন্যান্য অনেক দেশের মতো তার প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারেও।

তবে এই এত দ্রুত উত্থানে কৃত্রিমতার গন্ধ পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ। যেমন ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন ডিরেক্টর এস কে কৌশিক বলেন, “বাজার যে এখন ভাল থাকবে, সে বিষয়ে প্রায় কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু একটা বড়সড় সংশোধন বা কারেকশনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।” তাঁর যুক্তি, “কেন্দ্রে নতুন সরকার আসার পর নিফ্টি দ্রুত ৬,৭০০ থেকে ৭,৬০০ পয়েন্টে উঠেছে। কিন্তু লেনদেনের পরিমাণ তেমন বাড়েনি। লেনদেনের পরিমাণ উত্থানের সঙ্গে সমানুপাতিক হারে না বাড়লে, সূচক যেখান থেকে দৌড় শুরু করেছিল, সেখানেই ফিরে যাওয়ার একটা প্রবণতা থাকে। তাই সেনসেক্স ২২ হাজারে এবং নিফ্টি ৬,৮০০-৬,৯০০ অঙ্কে নেমে এলে আমি অন্তত অবাক হব না। তবে এই সংশোধন বাজেটের আগে হবে কিনা, তা বলা কঠিন।”

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ক্ষুদ্র লগ্নিকারীদের কী করা উচিত?

এর উত্তরে কৌশিকের পরামর্শ, “এই মুহূর্তে ক্ষুদ্র সাধারণ লগ্নিকারীদের বাজার থেকে চলে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে তাঁদের উচিত, শেয়ারের দামের সংশোধনের জন্য অপেক্ষা করা। এ ছাড়া, বড় সংস্থার দামী শেয়ার কেনার দিকে না ঝুঁকে ছোট ও মাঝারি মূলধনের (স্মল ক্যাপ ও মিড ক্যাপ) সংস্থার শেয়ারে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। কারণ, ছোট ও মাঝারি মূলধনের সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম বৃদ্ধির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি মনে করেন, ওই ধরনের ভাল সংস্থায় বিনিয়োগ করা গেলে, এক বছরের মধ্যেই মোটা মুনাফা করার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

Advertisement