অবশেষে দাঁড়ি পড়ল টাটা টেলিসার্ভিসেসে এনটিটি ডোকোমোর অংশীদারি ছাড়া নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিতর্কে। জাপানি সংস্থাটি মঙ্গলবার জানাল, দু’সংস্থার যৌথ উদ্যোগ টাটা-ডোকোমো ছাড়ার জন্য টাটা সন্সের থেকে প্রায় ১২০ কোটি ডলার (প্রায় ৭,৮০০ কোটি টাকা) পেয়েছে তারা। পরিবর্তে টাটা টেলিতে নিজেদের শেয়ার তুলে দিয়েছে টাটা সন্সের হাতে।
লন্ডনের আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত এ সংক্রান্ত মামলায় ডোকোমোকে ১১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৭,৮৩৯ কোটি টাকা) মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল টাটা সন্সকে। যাতে আপত্তি ছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের। কিন্তু গত এপ্রিলে সেই ক্ষতিপূরণের নির্দেশই বহাল রাখে দিল্লি হাইকোর্ট। ওড়ায় শীর্ষ ব্যাঙ্কের ওজর। এ দিন ওয়েবসাইটে ডোকোমো জানিয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই ১২০ কোটি ডলার মিটিয়েছে টাটারা। এতে অংশীদারি ছা়ড়ার অর্থের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সুদের টাকা ও অন্যান্য খরচও।
২০০৯-এ ভারতে টেলি পরিষেবা দিতে প্রায় ১২,৪৭০ কোটি টাকায় (শেয়ারে ১১৭ টাকা) টাটা টেলির ২৬.৫% অংশীদারি কিনেছিল ডোকোমো। চুক্তিতে বলা ছিল, পাঁচ বছরের মধ্যে ডোকোমো যৌথ উদ্যোগ ছাড়লে, লগ্নি করা অর্থের ন্যূনতম ৫০% তাদের মেটাবে টাটারা। সেই অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ডোকোমো সংস্থা ছাড়তে চেয়ে শেয়ারে ৫৮ টাকা বা প্রায় ৭,২০০ কোটি দাবি করে। তৎকালীন কর্ণধার সাইরাস মিস্ত্রির নেতৃত্বে যা নিয়ে আপত্তি তুলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ম মাফিক শেয়ারে ২৩.৩৪ টাকা দিতে চায় টাটা সন্স।
পরে অবশ্য মিস্ত্রি টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরার পরে টাটা ও ডোকোমোর মিটমাট হয়। ক্ষতিপূরণ নিয়ে সালিশি আদালতের নির্দেশ পালনেও রাজি হয় দু’পক্ষ।