হোটেলের কর্মী ঘরের দরজা ধাক্কা দিতেই ভিতর থেকে খুলে দিলেন দুই অতিথি। কর্মীর সঙ্গে থাকা তিন যুবক ঘরে ঢুকে অতিথিদের থেকে কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে 

চাইলেন। কথাবার্তার মাঝেই ওই যুবকেরা ঘরের কোনা থেকে সযত্নে রাখা চিরকুটটি উদ্ধার করেন। সন্দেহজনক ভাবে রাখা সেই চিরকুট খতিয়ে দেখার পরে দুই অতিথিকে বসিয়ে ঘরের তল্লাশি শুরু করেন যুবকেরা। এর পরে সেখান থেকেই তাঁদের গাড়িতে নিয়ে বেরিয়ে যান তিন যুবক। বেটিং চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এ ভাবেই বুধবার রাতে ভবানীপুরের রমেশ মিত্র রোডের একটি গেস্ট হাউস থেকে দুই অতিথি ও তাঁদের এক সঙ্গীকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম কৃষ্ণকুমার জ্যোতি, সুনীলকুমার সাউ এবং সুভান কুমার। ধৃত তিন জনেরই বাড়ি বারাণসীতে। তাঁদের কাছ থেকে ছ’টি মোবাইল-সহ ক্রিকেট বেটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নাম এবং নথি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতেরা আইপিএল ম্যাচ বেটিংয়ে যুক্ত। গত সোমবার থেকে গেস্ট হাউসে ঘাঁটি গেড়েছিলেন তাঁরা। বুধবার রাতে আইপিএল-এর সান রাইজার্স হায়দরাবাদ ও দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের ম্যাচ ছিল। সেই ম্যাচেই বেটিং করতে গিয়ে বুধবার হাতেনাতে ধরা পড়েন অভিযুক্তেরা।

পুলিশের দাবি, কয়েক মাস ধরেই শহরে ফের জাল ছড়াচ্ছিল ক্রিকেট বেটিং চক্রের। যা বিস্তৃত ইডেন গার্ডেন্স থেকে উত্তর কলকাতার হোটেল পর্যন্ত। গত মাসে ইডেনে কলকাতা বনাম বেঙ্গালুরুর ম্যাচ চলাকালীন মাঠে বসেই বেটিং করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন ভিন্ রাজ্যের সাত জন। ধৃতেরা প্রত্যেকে মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। তাদের থেকে ১৪টি মোবাইল-সহ বেটিংয়ের কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছিল। তারও আগে গিরীশ পার্ক এলাকার একটি হোটেল থেকে বেটিং চক্র চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন আরও তিন জন। 

পুলিশ সূত্রের খবর, গত এক মাসে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরপর গ্রেফতারের পরেও বেটিং চক্র যে চলছে সে খবর আসছিল গোয়েন্দাদের কাছে। সেই খোঁজে নেমেই রমেশ মিত্র রোডের গেস্ট হাউসে তিন বহিরাগতের সন্ধান পান। ধৃতেরা তিন জনই ওই ঘরে বসে দেশ-বিদেশের বুকিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বেটিং চালাচ্ছিলেন বলে জানান তদন্তকারীরা। বাজেয়াপ্ত মোবাইল এবং বিভিন্ন চিরকুট থেকে আইপিএল-এর বিভিন্ন ম্যাচের বেটিং সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছে পুলিশ। যা থেকে পুলিশের দাবি, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। দল বেছে নিয়ে ফোনের মাধ্যমে বেটিংয়ের টাকা লাগানো হত। অনলাইনে টাকা নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে ঢুকত। যা ওই চিরকুটে লিখে রাখা হত। ওই সব চিরকুট ঘরে বিভিন্ন জিনিসের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হত।

এক তদন্তকারীর কথায়, ‘‘বাজেয়াপ্ত নথি থেকে ওই জুয়ায় অংশ নেওয়া কয়েক জন ‘পান্টারের’ (যাঁরা বুকিদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন) নাম মিলেছে। কয়েক জন বুকির ফোন নম্বরও মিলেছে। এ ছাড়া বহু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেরও খোঁজ মিলেছে। যেখানে বেটিং বাবদ টাকা লেনদেন হত।’’