বিকল্প কোনও জায়গা নেই। সেই কারণে আগেই শহরের বিভিন্ন পুরসভার পার্কে বুস্টার পাম্পিং স্টেশন তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

পুরসভার এই পরিকল্পনা নিয়ে আগেই বিতর্ক তুলেছিলেন পরিবেশবিদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, এর ফলে পার্কের সবুজ ধ্বংস হচ্ছে। সেই কারণেই পার্কের সৌন্দর্যায়ন এবং সবুজের রক্ষায় বুস্টার পাম্পিং স্টেশনের উপরে ‘রুফটপ গার্ডেন’ শুরু করেছে পুরসভার উদ্যান দফতর। আগে বেশ কয়েকটি জায়গায় এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তা সফলও হয়েছে। বর্তমানে চেতলা বুস্টার পাম্পিং স্টেশনের উপরেই বাগান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা। সে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুরকর্তৃপক্ষ।

কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (উদ্যান) দেবাশিস কুমার বলেন, ‘‘জল সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার জন্য জায়গা দরকার। কিন্তু তা না থাকায় বাধ্য হয়ে পুরসভার বিভিন্ন পার্কের একাংশ বেছে নেওয়া হচ্ছে। তবে সবুজ যাতে কোনও ভাবেই নষ্ট না হয়, সেই কারণে বুস্টার পাম্পিং স্টেশনের উপরে পার্ক তৈরি করা হচ্ছে’’।

পুরসভা সূত্রের খবর, বহু দিন ধরেই কলকাতা পুরসভার ভূগর্ভস্থ বুস্টার পাম্পিং স্টেশনের উপরে পার্ক করার রেওয়াজ রয়েছে। 

মহম্মদ আলি পার্ক এবং সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার তার অন্যতম দৃষ্টান্ত। কিন্তু ছোট বুস্টার পাম্পিং স্টেশনের 

ছাদে এমন পরিকল্পনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল নিয়ন্ত্রিত পুরবোর্ড ক্ষমতায় আসার পরেই দক্ষিণ কলকাতার কসবা, কালীঘাট এবং সিরিটিতে বুস্টার পাম্পিং স্টেশনের ছাদের উপরে বাগান করা হয়েছে। প্রায় বছর দু’য়েক আগে তৈরি হয়েছে এই চেতলা বুস্টার পাম্পিং স্টেশন। এ বার একই ভাবে তার ছাদেও তৈরি করা হচ্ছে সুদৃশ্য পার্ক। লেক গার্ডেন্সের বাঙুর পার্কেও বুস্টার পাম্পিং স্টেশনের ছাদে বাগান তৈরির দাবি রয়েছে বাসিন্দাদেরও। 

সূত্রের খবর, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে নয়, শহরের সব জায়গায় যেখানেই ছাদে বাগান করার সুযোগ রয়েছে সেখানে এমন পরিকল্পনা নিতে চায় পুরসভা। উদ্যান দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, উদ্যান দফতর চাইলেও তা বাস্তবায়িত করতে পারে না। যত ক্ষণ না পুরসভার জল সরবরাহ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং দফতর বুস্টার পাম্পিং স্টেশনের উপরে এমন প্রকল্প করার অনুমতি দিচ্ছে। তত ক্ষণ উদ্যান দফতর চাইলেও সব জায়গায় ছাদে বাগান তৈরি করতে পারছে না। এ জন্য সব বুস্টার পাম্পিং স্টেশনগুলিতে ছাদে বাগান করতে না পারলেও বাকি অংশের সৌন্দর্যায়ন হচ্ছে বলে পুর আধিকারিকরা জানান।