• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ত্রস্ত পশুদের জন্য বাড়তি কর্মী চিড়িয়াখানায়

Crane
প্রতীকী ছবি।

কালীপুজোর আগের দু’দিন বৃষ্টি হয়েছিল বলে খানিক নিশ্চিন্তে ছিলেন আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। ভেবেছিলেন, এ বার হয়তো শব্দবাজির দাপট তেমন হবে না। কিন্তু রবিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আঁচ করতে শুরু করেন কর্তৃপক্ষ। তখনই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি শুরু হয় আলিপুর চিড়িয়াখানায়। শব্দতাণ্ডবের জেরে ত্রস্ত পশুপাখিদের পাহারা দিতে আলাদা কর্মী নিয়োগ করা হয় বলে চিড়িয়াখানা সূত্রের খবর। সন্ধ্যা ৮টার পর থেকে মুহুর্মুহু শব্দবাজির দাপটে শুরু হয় পশুপাখিদের ভোগান্তির পালা। 

চিড়িয়াখানার অধিকর্তা আশিসকুমার সামন্ত সোমবার বলেন, ‘‘এমনি রাতে পাহারা দেওয়ার জন্য কর্মীরা থাকেনই। কিন্তু তাঁদের বাদ দিয়েও আলাদা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁরাই সারা রাত ওদের দেখভাল করেছেন।’’ 

চিড়িয়াখানা সূত্রের খবর, প্রতি বছরই কালীপুজো ও দীপাবলির সময়ে বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা হয়। কারণ, শব্দবাজির আওয়াজে চমকে চমকে ওঠে চিড়িয়াখানার প্রাণীরা। শুরু হয় অস্বস্তি। ক্রমাগত বিকট আওয়াজ তাদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার উপরেও প্রভাব ফেলে, বিশেষত হরিণের মতো ভিতু প্রাণীদের। চিড়িয়াখানার এক কর্তার কথায়, ‘‘হরিণ এমনিতেই ভিতু। ফলে শব্দবাজিতে ওদের সব চেয়ে বেশি অসুবিধা হয়।’’

শব্দবাজির দাপটে ত্রাহি ত্রাহি রব ওঠে পাখিদের মধ্যেও। চিড়িয়াখানায় প্রায় ৩০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। এক কর্তার কথায়, ‘‘বনে হঠাৎ আওয়াজ হলে যেমন ওরা ডাকাডাকি শুরু করে বা উড়ে যায়, এখানেও তেমনই।’’ তবে কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, চিড়িয়াখানার মূল পরিসর ও সংলগ্ন এলাকায় যে হেতু সে ভাবে শব্দবাজি ফাটানো হয় না, তাই কিছুটা বাঁচোয়া। তা ছাড়া, অনেকটা এলাকা জুড়ে পশু-পাখিরা থাকে বলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তা না হলে এই কয়েক দিন চিড়িয়াখানার পশুপাখিদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠত।

গত বছর ফানুসের কারণে যাতে কোনও বিপদ না হয়, তার জন্য বিশেষ সতর্ক ছিলেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। অধিকর্তা জানিয়েছেন, এ বারেও সেই একই সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন