মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বছরভর যাঁরা ঝোপজঙ্গল-সহ বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে থেকে কাজ করেন, এ বার তাঁদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে তৎপর হল বিধাননগর পুরসভা। এর আগে মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এক স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এর পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণের কর্মীদের অনেকে জ্বরেও আক্রান্ত হয়েছেন।

পুর কর্তৃপক্ষ জানান, এ বার মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের কাজ চলাকালীনই স্বাস্থ্যকর্মীদের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হচ্ছে। এক পুরকর্তার কথায়, ‘‘যাঁরা বছরভর মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের কাজ করছেন, তাঁরা কতটা সেই কাজে শারীরিক ভাবে সক্ষম সেটা জানা জরুরি। পাশাপাশি এই পরীক্ষা করা থাকলে সার্বিক ভাবে সেই সব কর্মীদের কী ভাবে কতটা কাজে লাগানো যাবে, তা নিয়েও পরিকল্পনা করা সম্ভব।’’

পুর প্রশাসনের একাংশের দাবি, স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট দেখলে কর্মীরাও জানতে পারবেন তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা সম্পর্কে। সেটা জানা খুবই জরুরি। 

সম্প্রতি বিধাননগর পুরভবনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। এক পুরকর্তা জানান, পর্যায়ক্রমে বরোভিত্তিক প্রতিটি স্বাস্থ্যকর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি সেই তথ্য রাখা থাকবে পুরসভার কাছে।

মশা মারার কাজের কর্মীদের একাংশ জানান, ঝোপ-জঙ্গলে, খালে নেমে ওষুধ, তেল স্প্রে করতে হয় তাঁদের। অনেক ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেও গিয়েও তাঁদের মশা তাড়ানোর কাজ করতে হয়। এমনই এক কর্মীর কথায়, ‘‘খালপাড়ে ওষুধ স্প্রে করতে গিয়ে মশা এবং দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তেমন উদাহরণও রয়েছে।’’ 

আবার বৃষ্টিতে ভিজে লাগাতার কাজ করতে গিয়ে ওই কর্মীদের অনেক সময়ে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে শুধুমাত্র মশা নিয়ন্ত্রণের কর্মীদের জন্য পুরসভা আলাদা করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করার ওই কর্মীরা উপকৃত হবেন বলেই তাঁরা মনে করেন। পুরসভা সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য পরীক্ষা বলতে, রক্তের সাধারণ পরীক্ষা ছাড়াও রকমারি শারীরিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে। বর্তমানে বিধাননগর পুরসভায় ছ’শোরও বেশি পুরকর্মী মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের কাজে যুক্ত রয়েছেন। 

মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) প্রণয় রায় জানান, মশা নিধনের কাজে ঝোপজঙ্গল থেকে শুরু করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ— সর্বত্রই কর্মীদের যেতে হয়। লাগাতার এই কাজের ধকল কতটা পুরকর্মীরা নিতে পারছেন তা-ও জানা প্রয়োজন। তাই এমন ভাবনা। এই স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যয়ভার পুরসভাই বহন করছে।