ভিন্ রাজ্যের এক ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে সল্টলেকের জিডি ব্লকে। মৃতার নাম লিজা লিসাম (২২)। তিনি হোমিয়োপ্যাথি কলেজে পড়তেন।

পুলিশ জানায়, ওই ছাত্রীর বাড়ি মণিপুরে। জিডি ব্লকের একটি বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে সেই বাড়ির শৌচাগার থেকেই লিজার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ওই তরুণীর মৃত্যু কী ভাবে হল, তা নিয়ে পুলিশ এখনও অন্ধকারে। দেহটি পাঠানো হয়েছে ময়না-তদন্তে। এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত স্থানীয় থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই লিজার রুমমেট ও সহপাঠীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু তাঁদের কাছ থেকে মৃত্যুর বিষয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনও সূত্র পাওয়া যায়নি। মণিপুরে ওই ছাত্রীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। লিজা আত্মঘাতী হয়েছেন, না কি এর নেপথ্যে অন্য কোনও ঘটনা রয়েছে, তারই খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণীর ঘর থেকে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। ময়না-তদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে তারা।

অন্য দিকে, নিউ টাউনের নবাবপুরে একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের পাঁচতলা থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতের নাম কুন্তল ঘোষ (৩৬)। আগে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকর্মীর কাজ করতেন তিনি। পরে চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেন। তবে ওই নির্মীয়মাণ বাড়িতে তিনি কেন গেলেন, কবেই বা গেলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় ওই বহুতল থেকে পচা গন্ধ পান স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই গন্ধের সূত্র ধরে ওই বহুতলের পাঁচতলায় গিয়ে তাঁরা দেখেন, সেখানে একটি পচাগলা দেহ ঝুলছে। সেটি দেখেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দেহ উদ্ধার করে ময়না-তদন্তে পাঠায়।

পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতের পরনে ছিল ফুলহাতা শার্ট ও ট্রাউজার্স। তাঁর গলায় পেঁচানো দড়ি লাগানো ছিল সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে। তবে প্রাথমিক তদন্তে দেহের বাইরে আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।