গত মঙ্গলবারই ভেঙে পড়েছিল মাঝেরহাট সেতু। ঠিক তার এক সপ্তাহের মাথায় ফের মঙ্গলবার সকালে অন্য একটি সেতুর চাঙড় ভেঙে পড়ে জখম হলেন এক মহিলা। ঘটনাটি ঘটেছে চেতলা সেতুর নীচে।

সেতুর নীচে বসা বাজারে আনাজ বিক্রি করছিলেন বছর পঞ্চাশের সুমিত্রা মালিক। হঠাৎই তাঁর মাথায় হুড়মুড়িয়ে চাঙড় ভেঙে পড়লে জখম হন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। মাঝেরহাট পরবর্তী শহরে সেতুগুলো কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছেই। তার মধ্যে এ দিনের ঘটনা সেই প্রশ্নকে আরও উস্কে দিয়ে গেল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, চেতলা সেতুর সামনের রাস্তার ফুটপাতেই বাজার বসত। কিন্তু মাঝেরহাট সেতু ভাঙার পরে ওই রাস্তা ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় ফুটপাত থেকে বাজার তুলে দেয় পুলিশ। কয়েক জন আনাজ বিক্রেতাকে বসতে দেওয়া হয় সেতুর নীচে। মঙ্গলবার সকাল থেকে আর পাঁচ জন বিক্রেতাদের সঙ্গে আনাজ বিক্রি করছিলেন সুমিত্রাদেবী। তিনি বলেন ‘‘হঠাৎ দেখি উপর থেকে কিছু ভেঙে পড়ছে। ছুটে পালাতে যাই। তখনই কয়েকটি টুকরো আমার মাথায় ও পিঠে পড়ে কয়েকটা জায়গায় ছড়ে গিয়েছে।’’ এলাকাবাসী সুমিত্রাদেবীকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে ছুটে আসেন 

সুমিত্রাদেবীর আত্মীয়েরা।

এ দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, অনেকটা জায়গার চাঙড় ভেঙে পড়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতুর নীচের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। অনেক জায়গায় লোহা বেরিয়ে গিয়েছে। কয়েক মাস আগেই সেতুর ওই অংশে সিমেন্টের প্রলেপ পড়েছিল। এক বাসিন্দা বিমান দাস বলেন, ‘‘মাত্র কয়েক মাস আগে লাগানো সিমেন্টের প্রলেপ যে কত ঠুনকো, তা আজ বোঝা গেল।’’

শুধু ওই চাঙড়ের খসে পড়া অংশই নয়, সেতুর বেশ কিছু অংশে দেখা গেল ফাটলের চিহ্ন। প্রবল বৃষ্টি হলেই সেতু থেকে জল চুঁইয়ে পড়ছে। নিকাশির অবস্থা এতই খারাপ যে মিনিট দশেকের বৃষ্টিতেই সেতুর নীচের রাস্তায় জল জমে যায়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতুতে হাইট বার লাগানো না থাকায় প্রায়ই উঁচু গাড়ি সেতুর উপরের অংশে ঘষা খায়। ফলে সেখান থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে কেএমডিএ। সংস্থার এক আধিকারিকের অবশ্য দাবি, ‘‘দ্রুত চেতলা সেতুর স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’