• সুনীতা কোলে
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অযথা আতঙ্ক নয়, শিশুরা ব্যস্ত থাক গঠনমূলক কাজে

Corona
ফাইল চিত্র

পরীক্ষার পরে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল। করোনা-আতঙ্কে প্রথমেই বাতিল হয়েছে সেই পরিকল্পনা। তার পরে বন্ধ হয়ে যায় শহরের মধ্যে ঘোরাঘুরিও। আর এখন তো সম্পূর্ণ গৃহবন্দি। করোনাভাইরাস ঠেকাতে দেশ জুড়ে লকডাউনের নির্দেশ জারি হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এমন কত দিন চলবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না এখনই। এই পরিস্থিতিতে বাড়ির 

শিশু-কিশোরেরা কী ভাবে সারাদিন কাটাবে, সেই প্রশ্ন ঘুরছে অভিভাবকদের মাথায়। 

করোনা-সংক্রমণ নিয়ে অনেক কচিকাঁচারই ঠিক ধারণা নেই। টিভি বা সংবাদপত্র দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। পেরেন্টিং কনসালট্যান্ট পায়েল ঘোষ পরামর্শ দিচ্ছেন, শিশুমনে আতঙ্কের ছায়া যাতে না-পড়ে, তার দিকে খেয়াল রাখুন বাবা-মায়েরা। টিভিতে অসুস্থতা এবং মৃত্যুর খবর দেখা থেকে দূরে রাখতে হবে তাদের। বোঝাতে হবে, এই সময়টায় বাড়িতে থাকার ছুটি চলছে এবং সকলে মিলে তার আনন্দ উপভোগ করা হবে। একটু বড় যারা, তাদের বলতে হবে যে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই, এই সময়ে বাড়িতে থাকলে এবং কিছু বিধি মেনে চললে সুস্থ থাকা যাবে। পায়েল জানাচ্ছেন, খাবার নষ্ট না-করার বিষয়ে এই সময়ে খুব জোর দিতে হবে অভিভাবকদের। নষ্ট করলে সেটা আর পাওয়া যাবে না এবং এক জন খাবার নষ্ট করলে অন্য কেউ বঞ্চিত হবেন, সেটা শিশুদের বারবার বলা জরুরি। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে, এ কথাও মজার ছলে বাচ্চাদের বলা দরকার।

বাচ্চাদের সারাদিন কী ভাবে কাটবে, তার জন্য সকাল থেকেই একটা পরিকল্পনা করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পায়েল। যদি বাবা-মা দু’জনেই এই সময়ে বাড়িতে থাকেন, তা হলে এক জন যখন ঘরের কাজ করবেন, অন্য জন তখন সন্তানের সঙ্গে সময় কাটান। বাচ্চারা পড়াশোনা করে বা গল্পের বই নিয়ে কাটাক কিছুটা সময়। তারা সারা বছর ধরেই বিভিন্ন বোর্ড গেম, পাজ়ল উপহার পায়। সেগুলো ব্যবহার করার উপযুক্ত সময় এখনই। ধ্যান বা খালি হাতে ব্যায়ামের জন্যও কিছুটা সময় বরাদ্দ থাক। 

মোবাইল বা ট্যাবের ব্যবহার অন্য সময়ে নিয়ন্ত্রণ করলেও এখন শিশুদের কিছুটা ছাড় দিচ্ছেন অনেক মা-বাবাই। স্বামী বিদেশে আটকে পড়ায় পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন হাওড়ার মৌমিতা ঘোষ। মেয়েকে শান্ত রাখতে তাকে পছন্দের গাড়ির ভিডিয়ো দেখার অনুমতি দিয়েছেন। কার্টুন, সিনেমা, গানের পাশাপাশি শিক্ষামূলক বিনোদনের উপরে জোর দিচ্ছেন 

বেশির ভাগ অভিভাবকই। ইন্টারনেটের মাধ্যমে কিছু শেখারও অনেক সুযোগ রয়েছে এখন। ভার্চুয়াল গ্যালারির সুযোগ নিয়ে বাড়ি বসেই ঘুরে নেওয়া যেতে পারে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল থেকে দেশ-বিদেশের বহু সংগ্রহশালা। ভারতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, দ্রুত তাঁদের ওয়েবসাইটেও দেওয়া হবে ভার্চুয়াল গ্যালারির লিঙ্ক।

সারা বছর পড়াশোনা ও বিভিন্ন ক্লাস নিয়ে ব্যস্ত থাকা ছেলেমেয়েদের এই সময়ে ঘরের কাজ শেখানোর কথা ভেবেছেন অনেক অভিভাবক। দমদমের বাসিন্দা শ্রুতি রায় বলেন, ‘‘পরিচারিকা এখন আসতে পারবেন না। তাই রান্না থেকে কাচাকাচি— ঘরের সব কাজেই সাহায্য করতে উৎসাহ দিচ্ছি ১৩ বছরের ছেলেকে। সংসার কী ভাবে চলে, তা নিয়েও ওর একটা ধারণা তৈরি হচ্ছে।’’

পরিস্থিতি কঠিন হলেও উদ্বিগ্ন না-হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পায়েল। ফোন বা ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে যোগাযোগ থাক প্রিয়জনেদের সঙ্গে। অতিরিক্ত চিন্তা না করে এই ছুটিকে যথাসম্ভব গঠনমূলক ভাবে ব্যবহার করতে পারলেই ভাল থাকবে শিশুরা।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন