• দীক্ষা ভুঁইয়া 
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বাচ্চাদের খাবারের ব্যবস্থা করুন, আর্জি চাইল্ড লাইনে 

Lockdown
ছবি: পিটিআই।

মূলত নাবালিকােদর বিয়ে বন্ধ করা বা হারিয়ে যাওয়া কোনও শিশুকে উদ্ধার করে তাকে বাড়িতে অথবা হোমে পাঠানোই তাদের কাজ। কিন্তু লকডাউনের সময়ে সেই চাইল্ড লাইনের টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১০৯৮-এ ফোন আসছে অসহায় মা-বাবাদের। কারও মা পরিচারিকার কাজ করেন, বাবা রিকশাচালক। কিন্তু লকডাউনে এখন দু’জনেরই উপার্জন বন্ধ। অথচ, বাড়িতে ছোট ছেলেমেয়ে রয়েছে। তাদের খাবার জোগাবেন কোথা থেকে? উপায়ান্তর না-দেখে ১০৯৮-এ ফোন করছেন মা।   

কারও বাবা আবার পেশায় রাজমিস্ত্রি। কিন্তু এখন কাজ বন্ধ থাকায় হাতে টাকা আসছে না। যেখানে তিনি থাকেন, সেখানে পৌঁছতে পারছে না প্রশাসনও। তাঁরাও ফোন করছেন এই টোল-ফ্রি নম্বরে। 

মার্চ থেকে চলতি মাস পর্যন্ত কখনও আনন্দপুর, কসবা, কখনও বা তপসিয়া, সার্ভে পার্ক, ঠাকুরপুকুর, সরশুনা, কখনও আবার মহেশতলা বা রবীন্দ্রনগর থেকে এমন বহু ফোন এসেছে কলকাতা চাইল্ড লাইনের কাছে। ফোনে বলা হচ্ছে, বাড়িতে বাচ্চাদের খাবার ফুরিয়ে গিয়েছে। ফোন পেয়ে নিজেদের তহবিল থেকে ওই পরিবারগুলির কাছে রেশন এবং বেবি ফুড পৌঁছে দিচ্ছে চাইল্ড লাইন। নিজেরা না-পারলে স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য নিচ্ছে।    

কিন্তু এর থেকে বেশি ফোন এলে তাঁরা কী করবেন, তা নিয়েই এখন চিন্তিত চাইল্ড লাইনের আধিকারিকেরা। কারণ, খাবার সরবরাহ করার প্রয়োজনীয় অর্থ তাঁদের কাছে নেই। চাইল্ড লাইনের মূলত যা কাজ, সেটুকু করতে যা টাকা দরকার, তা-ই আছে তাঁদের হাতে। ফলে অসহায় পরিবারগুলির কাছ থেকে এমন একের পর এক ফোন পেয়ে তাঁরা দ্বারস্থ হচ্ছেন পুলিশ-প্রশাসনেরই।     

শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা চাইল্ড লাইনের কাছেও এমন একাধিক পরিবারের তরফে রেশন বা বাচ্চাদের খাবারের ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়ে ফোন এসেছে। দুই জেলার চাইল্ড লাইন নিজেরা ব্যবস্থা করতে না-পারলেও স্থানীয় প্রশাসন বা বিডিও অথবা পঞ্চায়েতের সাহায্যে পৌঁছে দিচ্ছে সেই রেশন বা বেবি ফুড।চাইল্ড লাইনগুলি জানাচ্ছে, যাঁরা ফোন করছেন, চাইল্ড লাইনের কাজ সম্পর্কে তাঁদের বিশেষ ধারণা নেই। তাঁরা ভাবছেন, বাচ্চার খাবারেরও ব্যবস্থা করবে চাইল্ড লাইন। সে কথা ভেবেই এই ফোন। এ বিষয়ে রাজ্যের শিশু অধিকার রক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী জানান, তাঁদের কাছে এখনও এমন ফোন আসেনি। চাইল্ড লাইনগুলিও কিছু জানায়নি। তাঁদের জানালে তাঁরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন