শহরের রাস্তায় যান চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে খুশি নন খোদ কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা। বুধবার কলকাতা পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

লালবাজারের একটি সূত্রের দাবি, এ দিন পুজোর শহরে যান চলাচল নিয়ে হওয়া ওই বৈঠকে বেশ কয়েকটি রাস্তায় যানজটের প্রসঙ্গ তুলে কমিশনার বাহিনীকে সতর্ক করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাহিনীর কয়েক জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, যান চলাচল মসৃণ রাখতে প্রতিটি ট্র্যাফিক গার্ডের মধ্যে সমন্বয় রক্ষারও নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনার, যাতে পুজোর সময়ে কোনও সমস্যা না হয়।

গত কয়েক দিনে শহরের বিভিন্ন অংশ যানজটের কবলে পড়েছে। যার জেরে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। পুলিশের একাংশের মতে, যানজটের বিষয়টিও নজর এড়ায়নি পুলিশ কমিশনারের। বৈঠকে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও শহরের বিভিন্ন রাস্তার যানজট নিয়ে অভিযোগ পাচ্ছেন তিনি। ট্র্যাফিক পরিচালনা নিয়ে তিনি যে খুশি নন, বৈঠকে তা স্পষ্টই জানান কমিশনার।

এক পুলিশকর্তার কথায়, ‘‘বৈঠকে কমিশনার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড, চক্রবেড়িয়া এবং উল্টোডাঙার যানজটের প্রসঙ্গ তুলেছেন। সেই সঙ্গে এক্সাইড মোড়-সহ শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্র্যাফিকের কোনও অফিসার কেন থাকছেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।’’ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্র্যাফিক গার্ডের আধিকারিকদের উত্তরেও তিনি খুশি হতে পারেননি বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

ট্র্যাফিক পুলিশকর্মীদের একটি অংশের মতে, পুজোর সময়ে বাহিনী যাতে ভাল ভাবে কাজ করে, তা নিশ্চিত করতেই এই বৈঠক করলেন কমিশনার। পুলিশের ত্রুটি বিশ্লেষণের পাশাপাশি পুজোয় কী করণীয়, তা-ও বলে দিয়েছেন তিনি। পুলিশকর্তাদের অনুমান, এ দিনের বৈঠকে সিপি নরমে-গরমে বুঝিয়ে বাহিনীর মনোবল ঠিক রাখার চেষ্টা করেছেন।

লালবাজার জানিয়েছে, এ দিনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, পুজোর ক’দিন সকাল থেকেই রাস্তায় অতিরিক্ত ট্র্যাফিক পুলিশকর্মীদের নামানো হবে। যাতে সকালের দিকে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলির দু’পাশে কেউ গাড়ি রাখতে না পারেন। পুলিশকর্তাদের দাবি, সকালে ট্র্যাফিক পুলিশ না থাকলে সেই সুযোগে অনেকেই বেআইনি ভাবে যত্রতত্র গাড়ি রেখে চলে যান। পরে সেই সব রাস্তায় গাড়ির চাপ বাড়লে ওই অবৈধ পার্কিংয়ের জন্য যানজট তৈরি হয়। এ বার যাতে সেই সমস্যা না হয়, তার জন্য আগে থেকেই সতর্ক হয়েছে লালবাজার। তাই পুজোর ক’দিন অন্যান্য বারের চেয়ে বেশি সংখ্যক ট্র্যাফিক পুলিশকর্মী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশেরই এক কর্তা জানিয়েছেন। এ দিনের বৈঠকে ট্র্যাফিক পুলিশের কর্তাদের বলা হয়েছে, রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, গড়িয়াহাট রোড, আশুতোষ মুখার্জি রোড, চেতলা সেন্ট্রাল রোড, টালিগঞ্জ সার্কুলার রোড-সহ যে সমস্ত রাস্তায় বড় বড় পুজো রয়েছে, সেখানে বেশি মাত্রায় নজরদারি চালাতে হবে। যুগ্ম কমিশনার ও ডিসি-দের বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে।