চার বছর আগে বিধাননগর পুরসভা, রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভা এবং মহিষবাথানের পঞ্চায়েত এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছিল নতুন কর্পোরেশন। নাম হয়েছিল বিধাননগর পুরসভা। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই নাম বদলে হতে পারে বিধাননগর-রাজারহাট পুরসভা। 

সম্প্রতি সব্যসাচী দত্তকে সরিয়ে বিধাননগরের নতুন মেয়র হন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। সেই প্রক্রিয়া চলাকালীনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরসভার নাম বদলের মৌখিক প্রস্তাব দেন ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়। তাতে প্রাথমিক ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতি মিলেছে বলেই তৃণমূল সূত্রের খবর। সেই সূত্র জানাচ্ছে, বিধানসভায় ওই সংক্রান্ত সংশোধনী আনতে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার তাপসবাবু বলেন, ‘‘রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভার ৪০০ বছরের ইতিহাসের কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রীকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। শুধুই বিধাননগর নামের মধ্যে রাজারহাটের পরিচয় উপেক্ষিত হয়। পুরসভার আসন্ন মাসিক অধিবেশনে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।’’

অবশ্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের বৈতরণী পার হতেই নাম বদলের ভাবনা। ২০২০ সালে পুরসভা এবং ২০২১ এ বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, লোকসভা নির্বাচনে রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভায় বিজেপির থেকে ৭৪৩ ভোটে পিছিয়ে তৃণমূল। এর পিছনে পুর-পরিষেবা নিয়ে রাজারহাট-গোপালপুরের বাসিন্দাদের অসন্তোষই দায়ী বলে মনে করেন শাসকদলের কাউন্সিলরদের একাংশ। তাঁদের মতে, বিধাননগর পুরসভা গঠনের সময়ে রাজারহাটের মানুষকে উন্নত পরিষেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পে অনেক বেশি কাজের সুযোগ মিলবে বলে বাসিন্দাদের মধ্যে ধারণা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সে সবের কিছুই হয়নি বলেই রাজারহাট-গোপালপুরের নাগরিকদের অভিযোগ। ট্রেড লাইসেন্স এবং সিসি নিয়েও বাসিন্দাদের ক্ষোভ রয়েছে।

ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে অতীতে পুরসভার চত্বরে একাধিক বার বিক্ষোভ দেখিয়েছেন রাজারহাট-গোপালপুরের ব্যবসায়ীরা। এক কাউন্সিলরের কথায়, ‘‘ট্রেড লাইসেন্সের সমস্যা না মেটালে বিধানসভা ভোটে ভুগতে হবে।’’

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের আগে রাজারহাটের বাসিন্দাদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ডেপুটি মেয়র নামের আবেগ  কাজে লাগাতে চাইছেন।

যদিও তাপসবাবুর দাবি, ‘‘পুরসভা একটি প্রতিষ্ঠান। সেটির নাম বদলের সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই।’’