বেথুন কলেজিয়েট স্কুলের অকৃতকার্য হওয়া ছাত্রীদের পাশ করানোর দাবি মেনে নেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার এমনই মত দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, সরকারি ওই স্কুলের একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে ওঠার পরীক্ষায় ১১৯ জন পড়ুয়ার মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে মোট ১৮ জন। সেই পড়ুয়াদের পাশ করানোর দাবি উঠেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অকৃতকার্য কোনও ছাত্রীকে পাশ করানো হবে না। অভিযোগ, এর পরেই বাইরে থেকে রাজনৈতিক চাপ শুরু হয়। এ দিন শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘ফেল করা কোনও ছাত্রীকেই পাশ করানো যাবে না। এ সব চলতে পারে না।’’

বিজ্ঞান এবং কলা বিভাগের অকৃতকার্য হওয়া ওই পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকেরা সোমবার স্কুলে গিয়ে পাশ করিয়ে দেওয়ার দাবি তোলেন। অভিভাবকদের অভিযোগ, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নিয়মের বাইরে গিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের মেয়েদের ফেল করিয়েছেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাশ্বতী অধিকারী জানিয়ে দেন, সংসদের নিয়ম মেনেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, ১৮ জন পড়ুয়া অকৃতকার্য হয়েছে। তাই কাউকেই পাশ করানো হবে না। কর্তৃপক্ষ তাঁদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় পড়ুয়ারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দফতরের সামনে ধর্নায় বসে। তাদের অভিভাবকেরা সংসদের দ্বারস্থ হন।

অভিভাবকেরা সংসদে গেলে দেখা যায়, বেশ কয়েক জন ছাত্রী তিন-চারটি বিষয়ে ফেল করেছে। মাত্র তিন জন রয়েছে, যারা থিয়োরিটিক্যাল এবং প্র্যাক্টিক্যালে আলাদা ভাবে পাশ না করলেও দু’টি মিলিয়ে পাশ করেছে। অভিভাবকদের দাবি, সংসদের আধিকারিকেরা তাঁদের জানিয়েছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি সংসদকে বিষয়টি বিবেচনার জন্য লেখেন, তা হলে তাঁরা সেটি ভেবে দেখবেন। কিন্তু শাশ্বতীদেবী জানিয়ে দেন, তিনি এমন কিছু লিখে দেবেন না। অভিযোগ, তার পরেই রাজনৈতিক চাপ শুরু হয়।

তবে শিক্ষামন্ত্রীর কথায় এ দিন স্পষ্ট, কোনও চাপের মুখেই অকৃতকার্যদের পাশ করানো যাবে না। মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সরকারি স্কুল শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু বলেন, ‘‘শিক্ষামন্ত্রী যে মনোভাব দেখিয়েছেন, তার জন্য তাঁকে সমিতির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ফেল করা পড়ুয়াদের পাশ করিয়ে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে এটা নিয়ম হয়ে দাঁড়াবে। তা হলে আর সরকারি স্কুলগুলির মান ধরে রাখা যাবে না।’’