এত দিন যা পারেনি, এ বার সেই পথেই হাঁটতে চলেছে কলকাতা পুরসভা!

পুর সূত্রে খবর, নলকূপের বদলে কলকাতা পুরসভায় সংযোজিত হওয়া জোকার তিনটি ওয়ার্ড ও সংলগ্ন দক্ষিণ শহরতলিতে গঙ্গার জল পরিশোধন করে সরবরাহ শুরু হবে। জল সরবরাহ করার বদলে কর নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ওই এলাকায় প্রতিটি বাড়িতে জল খরচের হিসেব নিতে মিটার বসানো হবে।

মহানগরের ভূগর্ভস্থ জলের ভাঁড়ারে আর্সেনিকের প্রকোপের কথা আগেই জানান বিজ্ঞানীরা। তাঁদের পরামর্শ ছিল, পান করার জন্য নলকূপের জলের বদলে নদীর জল পরিশোধন করে সরবরাহ করতে হবে। কিন্তু তার পরেও নলকূপে রাশ টানতে পারেনি পুরসভা। পুরকর্তাদের যুক্তি ছিল, জোকার সংযোজিত তিনটি ওয়ার্ড-সহ দক্ষিণ শহরতলিতে পরিশোধিত পানীয় জলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। নলকূপে রাশ টানলে পানীয় জলের সমস্যা হবে।

সেই রীতিতে এখন বদল হচ্ছে কী ভাবে? মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এডিবি) সোমবার ১২৫০ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করেছে। তার একটা অংশ দিয়ে নিকাশির উন্নয়ন হবে। বাকি অংশ জল প্রকল্পে লাগানো হবে। পুর সূত্রে খবর, পরিকল্পনানুযায়ী খরচ হবে ৬০০ কোটি টাকারও বেশি। শর্ত অনুযায়ী, খরচের ৭৪ শতাংশ এ়ডিবি-র খাত থেকে নেওয়া হবে। বাকি টাকা জোগাবে রাজ্য সরকার ও কলকাতা পুরসভা। খোদ পুরসভার ভাঁড়ার থেকেই প্রায় ১১৫ কোটি টাকা খরচ করা হতে পারে। মেয়র বলছেন, ‘‘জলাধার তৈরি, পাম্পিং স্টেশন তৈরির জন্য রাজ্য সরকার জমি দিয়েছে। তার দামও কম নয়।’’

পুরসভা সূত্রে খবর, জোকার সংযোজিত তিনটি ওয়ার্ড-সহ দক্ষিণ শহরতলির বড় এলাকায় পানীয় জল সরবরাহের জন্য টাকার খোঁজ চলছিল। এডিবি-র তরফে প্রস্তাব মেলে, বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্প থাকলে তারা টাকা দিতে পারে। তার পরেই এই প্রকল্পের রূপরেখা করা হয়। তাতে ন’টি জলের ওভারহেড ট্যাঙ্ক এবং ২টি ভূগর্ভস্থ জলাধার তৈরি করা হবে। মোট ৬১৯ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো হবে। তৈরি করা হবে দু’টি পাম্পিং স্টেশনও। জোকার ওই এলাকায় ২৪ ঘণ্টাই জলের সরবরাহ থাকবে।

পুরসভা যে এই প্রকল্প করতে চলেছে, কিছু দিন আগেই বণিকসভা ‘কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ’ (সিআইআই)-এর একটি অনুষ্ঠানে তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শোভনবাবু। কলকাতার আর্সেনিক দূষণ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, আগামী ২-৩ বছরের মধ্যেই শহরকে নলকূপ-মুক্ত করে তুলবেন তিনি। তার বদলে নদীর জল পরিশোধন করে বাড়ি বাড়ি সরবরাহ করা হবে। পুরসভার একটি সূত্র দাবি করছে, জল সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বদল আনা হচ্ছে, তাতে জোকা ছাড়া শহরের আরও কিছু এলাকায় দিনে ১২ ঘণ্টা পানীয় জল মিলবে।

পুরসভা জানাচ্ছে, ইএম বাইপাস সংলগ্ন ‘জয় হিন্দ জল প্রকল্প’ এলাকাতেও জল সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে। কী রকম? সূত্রের খবর, পরিশোধন করে তৈরি হওয়া জলের পরিমাণ এবং প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছনো জলের পরিমাণে এখন ফারাক থাকছে। একে প্রযুক্তির পরিভাষায় বলা হয় ‘ওয়াটার লস’। পুরকর্তাদের ব্যাখ্যা, পাইপলাইনে ফাটল-সহ নানা ত্রুটির কারণে এই জল নষ্ট হচ্ছে। সেটা রুখতে ওই প্রকল্পের বেশ কিছু ভূগর্ভস্থ পাইপ বদলানো হবে। কোথায় কোথায় মাটির তলায় জল অপচয় হচ্ছে, তা খুঁজতে মিটার বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর জন্য খরচ হবে ১৬৬ কোটি টাকা। এর আগে টালা জল প্রকল্পের আওতায় থাকা ১ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই কাজও চলছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।