বিধাননগর রোডে ফুটপাত ঘিরে ব্যবসা চলছে— ‘টক টু মেয়র’-এ এমনই অভিযোগ সরাসরি কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে জানিয়েছিলেন উল্টোডাঙার এক বাসিন্দা। শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওই ব্যক্তিকে আশ্বস্ত করেছিলেন মেয়রও। ওই জায়গার ঠিকানা জেনে নিয়ে মেয়র সংশ্লিষ্ট দফতরকে বিষয়টি দেখারও নির্দেশ দেন। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এর পরেও ফুটপাত দখলমুক্ত হয়নি। উল্টে ওই ফুটপাত ঘিরে তৈরি হচ্ছে কংক্রিটের কাঠামো। ফলে প্রশ্ন উঠেছে কেন মেয়র ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তা কার্যকর হয়নি?

মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজেও এমন অভিযোগের কথা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ। শনিবার তিনি বলেন,‘‘আমিও অভিযোগ পেয়েছি। তেমন হলে ওই নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হবে।’’

১ জুলাই থেকে কলকাতা পুরসভায় শুরু হয়েছে ‘টক টু মেয়র’ নামে ওই প্রকল্প। মেয়র ফিরহাদ হাকিম নাগরিকদের সঙ্গে তাঁদের সমস্যা সমাধানে সরাসরি কথা বলছেন। বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে মেয়র সংশ্লিষ্ট দফতরের পদস্থ অফিসার, ইঞ্জিনিয়ারকে নির্দেশ দিয়েছেন ঠিকই। তবে অভিযোগের পরিসংখ্যান বলছে, জল সরবরাহ, নিকাশি, জঞ্জাল সরানো, আলো লাগানোর মতো বিষয়গুলির সমস্যার সমাধান হলেও, বেআইনি নির্মাণ, ফুটপাত ঘিরে ব্যবসা কিংবা পুকুর ভরাটের অভিযোগ সমাধানে পুরসভার তৎপরতা নেই। জটিলতা বাড়ছে ওই সব সমস্যার সমাধান নিয়ে। যেমন উল্টোডাঙার ক্ষেত্রে হয়েছে। 

এ ব্যাপারে পুরসভার অফিসারদের একাংশের বক্তব্য, ওই ধরনের বেআইনি কাজের ক্ষেত্রে কোনও না কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা তাঁদের মদতপুষ্ট কেউ জড়িয়ে রয়েছেন। তাই মেয়রের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে। শাসকদলের নেতা বা বিধায়কের নাম করে জমি দখলের অভিযোগ মেয়রকে জানিয়েছিলেন তিলজলা তপসিয়া এলাকার এক বাসিন্দা। যা শুনে মেয়র বলেছিলেন ,‘‘যে বলছেন, তাঁকে বলুন মেয়র আপনার পাশে রয়েছে।’’ মেয়র যে সাহস জোগাচ্ছেন শহরবাসীকে, তা পুর অফিসারদের নেই কেন? সেই উত্তর পাওয়া যায়নি।

পুরসভার বিল্ডিং দফতর সূত্রের খবর, বিধাননগর রোডে ফুটপাত ঘিরে কাঠামো নিয়ে নোটিস দেওয়া হচ্ছে।