দক্ষিণ কলকাতার এক শপিং মলের কফি শপে ঢুকছিল এক যুবক। কিন্তু চেয়ারে বসার আগেই তাকে ঘিরে ধরে গাড়িতে তুলে ফেললেন যাদবপুর থানার কয়েক জন পুলিশ অফিসার। পুলিশ জানায়, প্রতারণার অভিযোগে মঙ্গলবার বিকেলে এ ভাবেই গ্রেফতার করা হয়েছে শুভজিৎ দাস নামে ওই যুবককে। বাড়ি যাদবপুর থানা এলাকার বিজয়গড়ে।

পুলিশের দাবি, বিভিন্ন বেসরকারি মে়ডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণা করত একটি চক্র। তারই মূল পাণ্ডা শুভজিৎ। তবে চক্রের বাকি সদস্যদের বুধবার রাত পর্যন্ত ধরতে পারেনি পুলিশ। ধৃতকে এ দিন আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীদের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা আদায় করত ওই চক্র। অভিযোগকারী ছাড়াও আরও চার জনের কাছ থেকে ওই চক্র এ ভাবে টাকা নিয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। 

পুলিশ জানায়, গত সপ্তাহে হাওড়ার বালির বাসিন্দা এক ব্যক্তি জানান, জয়েন্ট এন্ট্রান্সে তাঁর মেয়ের র‌্যাঙ্কিং পিছনের দিকে থাকায় তিনি চিন্তায় ছিলেন। অভিযোগ, গত মে মাসে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় প্রতারণা চক্রের এক সদস্যের। তাঁকে জানানো হয়, টাকা দিলে দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি মে়ডিক্যাল কলেজে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হবে মেয়েকে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, এর পরে অভিযোগকারীর কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ২৭ লক্ষ টাকা চেয়েছিল শুভজিৎ। তার মধ্যে ১২ লক্ষ টাকা শুভজিতের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। সেই সূত্র ধরেই তার খোঁজ পায় পুলিশ। তার পরে অভিযোগকারীর থেকে আরও ছয় লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল। সেই টাকা নিতে শপিং মলে গিয়েই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় শুভজিৎ।