জামিনে মুক্ত থাকা অবস্থায় ফের দুষ্কর্মের অভিযোগ ওঠায় গ্রেফতার করা হল কুখ্যাত দুষ্কৃতী দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে হাতকাটা দিলীপকে। এ দিন বিধাননগর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজত দেন। 

বিধাননগর কমিশনারেট সূত্রের খবর, গয়লাবাগান, বসাকবাগানে সিন্ডিকেটের রাশ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে দক্ষিণ দমদমের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবহাওয়া উত্তপ্ত ছিল। অভিযোগ, এর মধ্যেই রবিবার সন্ধ্যায় কালিন্দীর ‘ত্রিবেণী অ্যাপার্টমেন্টের’ কাছে দলবল নিয়ে ত্রিনাথ দাস নামে এক যুবকের কপালে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণে মারার হুমকি দেয় দিলীপ। পুলিশের দাবি, কোনও মতে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন ত্রিনাথ। এর পরে চাষিপাড়ার বাসিন্দা ওই যুবক লেকটাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করলে দিলীপকে বসাকবাগানের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

কিন্তু আচমকা দিলীপের এই ‘কীর্তি’ কেন?

বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এলাকায় সিন্ডিকেট, ইমারতি ব্যবসার দখল কার হাতে থাকবে তা নিয়েই গন্ডগোলের সূত্রপাত। স্থানীয় তৃণমূলের একটি গোষ্ঠী সূত্রে খবর, এলাকায় প্রতিপত্তি বজায় রাখতে গত কয়েক দিন ধরে চাষিপাড়া, গয়লাবাগান এলাকার বাসিন্দাদের শাসাচ্ছিল দিলীপ। তৃণমূলের অপর একটি গোষ্ঠীর প্রশ্রয়ে দিলীপ সক্রিয় হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের একাংশ জানান, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত ১৮ অগস্ট একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রেসিডেন্ট শুভ সরকার। বসাকবাগানে সেই অনুষ্ঠানের ফ্লেক্স হাতকাটা দিলীপের ছেলেরা ছিড়ে দেয় বলে অভিযোগ। রবিবার বিকেলে ডিজিটাল রেশন কার্ড ও ভোটার তালিকার সংশোধনী সংক্রান্ত প্রচারের সময় শুভর লোকেদের দিলীপ বাধা ও হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। এর পরেই সন্ধ্যার ঘটনা।

তৃণমূলের অপর গোষ্ঠীর বক্তব্য, বিষয়টি এত সহজ নয়। সিন্ডিকেট এবং ইমারতি সামগ্রীর ব্যবসা যে গন্ডগোলের মূলে তা স্বীকার করে নিয়ে তৃণমূলের এক নেতা বলেন, ‘‘গত কয়েকদিন ধরে বসাকবাগানে দিলীপের বাড়িতে গিয়ে কারা গালিগালাজ করে এসেছে খবর নিন।’’

স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক সুজিত বসু বলেন, ‘‘সিন্ডিকেটের কোনও বিষয় নেই। দিলীপ মদ খেয়ে টাকা চাইছিল, গুন্ডামি করছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে গুন্ডামি বরদাস্ত করা হবে না। এলাকার মানুষ আমাকে ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন। এর পরে পুলিশকে বলি ব্যবস্থা নিতে।’’