সবুজে ঘেরা বহুতল। আশপাশে প্রাতর্ভ্রমণের প্রশস্ত জায়গা, সাঁতারের জন্য পুল। গাছগাছালি এবং বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্যে সাজানো আবাসনের চত্বর। পুরনো স্মৃতি উস্কে দিতে আবাসনের বিভিন্ন অংশে ‘পথের পাঁচালী’, ‘গাইড’, ‘দিওয়ার’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের বিভিন্ন দৃশ্যের কোলাজ। এ ছাড়াও রয়েছে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্য পরিষেবার বিশেষ সুবিধা। তবে সবই প্রবীণ নাগরিকদের জন্য। 

নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া -১ এলাকায় প্রায় তিন একর জায়গা জুড়ে শুধুমাত্র প্রবীণদের জন্য এমন আবাসন প্রকল্প হাতে নিয়েছে হিডকো। এ শহরে একা প্রবীণদের ‘ভরসা’ বৃদ্ধাশ্রমগুলির মতো শুধু থাকা-খাওয়া দিয়ে নয়, তাঁদের বেঁচে থাকার অন্য মানে খুঁজে দিতেই এই প্রকল্পের ভাবনা। প্রবীণ আবাসিকেরা যাতে পরিবারের বাকি সদস্যের সান্নিধ্যে না থেকেও আর পাঁচ জনের মতো জীবনকে উপভোগ করতে পারেন, তার জন্য এই আবাসনে থাকছে সব রকমের সুযোগসুবিধা। ‘বয়স ভুলে বাঁচুন, বাড়ির আরামে বাঁচুন’— এই ভাবনা থেকেই এই প্রকল্পের পরিকল্পনা বলে সংস্থা সূত্রে জানানো হয়েছে। হিডকোর চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন বলছেন, ‘‘প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্রেফ বসবাসযোগ্য আবাসনই নয়, এখানে সব রকমের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’’ আজ, মঙ্গলবার এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে।

এর আগে প্রবীণদের জন্য উদ্যান থেকে শুরু করে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ রাখতে একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়েছে হিডকো। কিন্তু শুধুমাত্র প্রবীণদের জন্যই আস্ত একটি আবাসন প্রকল্পের কাজ তার তুলনায় অনেকটাই আলাদা। তিন একর জায়গায় তৈরি এগারোতলা ওই বহুতলে থাকছে মোট ১০০টি বাতানুকূল ঘর। ঘরের দাম শুরু ৯ লক্ষ ২০ হাজার টাকা থেকে। প্রতি তলে খাওয়াদাওয়া, টিভি দেখা, আড্ডা দেওয়ার জন্য থাকছে খোলা জায়গা, যেখানে আবাসিকেরা একত্রিত হতে পারবেন। রান্নাবান্নার জন্য থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। আবাসিকদের জামাকাপড় কাচার দায়িত্বে থাকবেন হাউস-কিপিংয়ের কর্মীরা। বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রতিটি ঘরে থাকছে ওয়াই-ফাইয়ের সুবিধা। ঘরে রয়েছে আপৎকালীন সুইচের ব্যবস্থাও, যাতে প্রবীণেরা কোনও বিপদে পড়লে সাহায্যের জন্য হাজির হতে পারেন দায়িত্বে থাকা কর্মীরা।

প্রবীণ আবাসিকদের স্বাস্থ্যের দিকটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে হিডকো সূত্রের খবর। কোনও আবাসিক অসুস্থ হলে যাতে সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবা পান, তার জন্য ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকবে একটি বিশেষ দল। আবাসন চত্বরে থাকছে ওষুধের দোকান। থাকবে ফিজ়িয়োথেরাপি ও হাইড্রোথেরাপি সেন্টারও। সেখানে বয়স্ক মানুষজন নিজেদের শারীরিক ভাবে সুস্থ রাখার জন্য যেতে পারবেন।

প্রবীণ আবাসিকদের পরিবার বা পরিচিতেরা আবাসনে এলে তাঁদের জন্যও থাকছে অতিথিশালা এবং গাড়ি রাখার জায়গা। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম-ও থাকছে আবাসন চত্বরের মধ্যে। হিডকো সূত্রের খবর, হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করার জন্য স্কাই গার্ডেন এবং আবাসনের কাছে স্বপ্নভোর পার্কে যেতে পারবেন ওই বহুতলের আবাসিকেরা। বিনোদনের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা সিনেমা দেখতে হলে প্রবীণ আবাসিকদের হাতের কাছেই রয়েছে রবীন্দ্রতীর্থ, নজরুলতীর্থ বা ইকো পার্কের মতো দর্শনীয় বিভিন্ন জায়গা।