দক্ষিণ কলকাতায় জলসঙ্কট ভয়াবহ আকার নিয়েছে— পুরসভার অধিবেশনে এ নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তাব দিলেন বাম কাউন্সিলরেরা। সোমবারের এই আলোচনায় অংশ নিলেন বাম কাউন্সিলরদের নেত্রীও। কিন্তু মেয়র পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করতেই অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে গেলেন তাঁরা। যাওয়ার সময়ে চিৎকার করে বলে গেলেন, মেয়র তাঁদের হেনস্থা করছেন। সমস্যার কথা মানতে চাইছেন না। যা দেখে শোভনবাবু বলেন, ‘‘জলের সমস্যার সমাধান নয়, বয়কট করে ওঁরা খবরে আসতে চান। তাই নাটক করে বেরিয়ে
যাচ্ছেন ওঁরা।’’

যাদবপুর, টালিগঞ্জ-সহ দক্ষিণ কলকাতার বেশ কিছু এলাকায় পানীয় জলের সঙ্কট বাড়ছে বলে গত কয়েক দিন ধরে অভিযোগ জমা পড়ছে পুরসভায়। অভিযোগের সেই তালিকায় শুধু বিরোধী নয়, রয়েছেন শাসক দলের একাধিক কাউন্সিলরও। এমনকি, বাইপাসের ধারে পানীয় জলের সঙ্কট নিয়ে চিন্তিত রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, বিধায়কও। পুর অফিসারদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। বছরের পর বছর এই সমস্যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ তুলে বাম কাউন্সিলর মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী জানতে চান, পুর প্রশাসন কী পদক্ষেপ করছে, তা জানানো হোক। তাঁর প্রস্তাবকে সমর্থন করে সিপিএমের কাউন্সিলর বিরোধী দলনেত্রী রত্না রায়মজুমদার বলেন, ‘‘বর্তমান শাসক দলের কাউন্সিলরেরা সব কিছুতেই ৩৪ বছরের তুলনা টানেন। তাতে তো আর সমস্যার সমাধান হতে পারে না।’’ শাসক ও বিরোধী দলের একাধিক কাউন্সিলরের বক্তব্যের শেষে জবাবি ভাষণ দিতে উঠে মেয়র শোভনবাবুর টিপ্পনী, ‘‘যখন আপনাদের ওই আসনে আমরা বসতাম, তখন জলের সঙ্কট নিয়ে বলতে বলতে গলা শুকিয়ে যেত। গলা ভেজানোর জলও মিলত না।’’ পরে মৃত্যঞ্জয়বাবু কিছু বলার চেষ্টা করতেই চারদিক থেকে রে রে করে ওঠেন শাসক দলের কাউন্সিলরেরাও। মেয়রও তখন বলে চলেছেন বাম আমলের জলসঙ্কট নিয়ে। কী ভাবে তার সমাধান করা হয়েছে, তার ব্যাখাও দিতে থাকেন। এর পরেই কক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে যান বামেরা। পুরসভার জল সরবরাহ দফতরের এক আধিকারিক জানান, দক্ষিণ কলকাতার পেয়ারাবাগানের জলসঙ্কট নিয়ে পুরসভা ব্যবস্থা নিচ্ছে। শহরের জল সঙ্কট কমাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ করছে পুরসভা।