ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন এগারো মাস আগে। কিন্তু এখনও চার্জশিট জমা পড়েনি। সেই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে লালবাজারের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন এক মহিলা। শনিবার দুপুরের ঘটনা। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত এক পুলিশ অফিসারই। ওই মহিলার অভিযোগ, অভিযুক্ত পুলিশ হওয়াতেই তদন্তে ঢিলেমি দেখা দিয়েছে। আলিপুর জেলা আদালত থেকে জামিনও পেয়েছেন অভিযুক্ত ওই পুলিশ অফিসার।

বিক্ষোভ শুরুর কিছু ক্ষণের মধ্যেই অবশ্য ওই মহিলাকে লালবাজারের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জানান, ডিসি ডিডি (২) নীলু শেরপা চক্রবর্তী তাঁর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত চার্জশিট পেশের আশ্বাস দিয়েছেন। অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁকে বসিয়ে কথা বলানোর আশ্বাসও মিলেছে বলে দাবি মহিলার।

যাদবপুর এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলা জানান, ২০১৫ সালে রিজেন্ট পার্ক ট্র্যাফিক গার্ডের ওই সার্জেন্টের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। ওই মহিলা বিবাহবিচ্ছিন্না। তাঁর যমজ সন্তান রয়েছে। অভিযোগ, নিজের ‘বিবাহিত’ পরিচয় লুকিয়ে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন ওই পুলিশকর্মী। ওই মহিলার এ-ও দাবি, ওই পুলিশকর্মীর সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কের ফলে তিনি দু’বার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে প়়ড়েন। কিন্তু তাঁকে চাপ দিয়ে গর্ভপাত করানো হয়। পরে ওই পুলিশকর্মী বিবাহিত জানতে পেরে সম্পর্কে ভাঙন ধরে। ২০১৭ সালের ২১ মে তিনি ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে পূর্ব যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

লালবাজার থেকে বেরিয়ে ওই মহিলা বলেন, ‘‘অভিযোগ দায়েরের সময়ে অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম। তখন গর্ভপাতের জন্য টাকার টোপ দেওয়াও হয়েছিল।’’ কিন্তু ওই মহিলার দাবি, অভিযোগ দায়ের হলেও অভিযু্ক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি। দু’মাস ফেরার থাকার পরে তিনি আদালত থেকে জামিন পান। পুলিশের তরফে জামিনের বিরোধিতা করা হয়নি বলেও তাঁর দাবি। সেই থেকে মামলার চার্জশিট জমা পড়েনি। ‘‘আমাকে ওই অফিসার নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে। তা নিয়ে গত ২২ মার্চ আমি লালবাজারে অভিযোগ জানিয়েছি,’’ বলছেন তিনি।

মহিলার অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত ওই সার্জেন্ট বলেন, ‘‘বিষয়টি বিচারাধীন। তাই কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’’ ডিসি ডিডি (২) নীলু শেরপা চক্রবর্তীর সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবশ্য বলেছেন, ‘‘আমার এ ব্যাপারে কিছু জানা নেই।’’ তবে পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, তদন্ত অনেকটাই এগিয়েছে। শীঘ্রই চার্জশিট পেশ হবে।