রেখাচিত্রেই লুকিয়ে আছে ছবির প্রাণ— এমনটাই মনে করেন প্রবীণ শিল্পী রথীন মিত্র। মাথায় টুপি, সফেদ শ্মশ্রু আর মুখে পাইপ— এই হল শিল্পীর সুপরিচিত রূপ। অক্লান্ত মানুষটি রেখাচিত্রে ধরেছেন বিস্ময়কর সব ছবি, যেগুলি আজ ইতিহাস। ওঁর কাজে যেমন ধরা পড়েছে অচেনা এক কলকাতা, তেমনই বিভিন্ন মনীষীর স্মৃতিবিজড়িত স্থাপত্য। মধ্য হাওড়ার কাসুন্দিয়াতে জন্ম ১৯২৬ সালে। কলকাতার সরকারি শিল্পবিদ্যালয়ে শিল্পশিক্ষা। দেশবিদেশের নানা স্কুল ঘুরে শেষে দুন স্কুলের শিল্পশিক্ষক ছিলেন প্রায় ২৫ বছর। ফাঁকে ফাঁকে পরিব্রাজকের মতো ঘুরে বেড়িয়েছেন সারা ভারত। ১৯৮০-র দশকের পর কলকাতায় পাকাপাকি বসবাস শুরু। এ যাবৎ শিল্পীর প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি একক এবং যৌথ প্রদর্শনী হয়েছে দেশে ও বিদেশে। প্রথম একক ১৯৪৯ সালে। সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তিনি যোগ দিয়েছিলেন প্রদোষ দাশগুপ্ত, নীরদ মজুমদার, সুভো ঠাকুরের ‘ক্যালকাটা গ্রুপ’এ। রেখাচিত্রের বাইরে জলরঙেও সিদ্ধহস্ত তিনি এবং মূর্তিও গড়েছেন বেশ কিছু। সাত দশকেরও বেশি সময় নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে চলেছেন শিল্পী। স্বামী বিবেকানন্দ আর মহাত্মা গাঁধী— এই দুই ব্যক্তিত্বের স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাস রেখায় বন্দি করাকে ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন। সম্প্রতি বিবেকানন্দের ভারত পরিব্রাজন বিষয়ে প্রায় ১৩০টি ছবি নিঃশর্তে তুলে দিলেন রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচারের হাতে। এই ছবি নিয়েই এ বার ইনস্টিটিউটের আর্ট গ্যালারিতে ‘স্বামী বিবেকানন্দের ভারত পরিক্রমা’ শীর্ষক বার্ষিক প্রদর্শনী। আজ সকাল ১১টায় প্রদর্শনীর সূচনায় থাকবেন স্বামী স্মরণানন্দ এবং স্বামী সুপর্ণানন্দ। শিল্পীকেও জানানো হবে সম্মান। গান্ধার শিল্প এবং কাশ্মীর উপত্যকার হিন্দু ভাস্কর্য— এই দুই বিষয়ে নতুন দু’টি গ্যালারিও খুলে দেওয়া হবে। প্রদর্শনী চলবে ৪ মে পর্যন্ত (১০-৬টা)। সঙ্গের ছবিতে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে যে পথে নরেন্দ্রনাথ প্রথম প্রবেশ করেন।

 

অমিয়কথা 

“তুমি আমার অনেক করেচ, অনেক ক্লান্তি থেকে বাঁচিয়েছ— তোমার সহযোগিতা আমার পক্ষে বহুমূল্য হয়েছিল সে কথা কোনোদিন ভুলতে পারবো না— কোনোদিন তোমার অভাব পূর্ণ হবে না।”— রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন তাঁর সাহিত্য-সহায়ক অমিয় চক্রবর্তীকে। ১৯৩৩ সালে গবেষণার জন্য অক্সফোর্ডে যান, তার পর প্রায় সারা বিশ্ব ভ্রমণ করেছেন, পড়িয়েছেন নানা সারস্বত প্রতিষ্ঠানে। লিখেছেন খসড়া, একমুঠো, পারাপার-এর মতো কাব্যগ্রন্থ, চলো যাই বা সাম্প্রতিক-এর মতো গদ্যগ্রন্থ। ইংরেজি বইয়ের সংখ্যা এগারো। তাঁরই রচিত ‘মেলাবেন, তিনি মেলাবেন’ পঙ্‌ক্তিটি তো প্রায়-প্রবাদ। দেশবিদেশের বহু মনীষীর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে এসেছেন। দেশিকোত্তম, সাহিত্য অকাদেমি, পদ্মভূষণ ছাড়াও পেয়েছেন নানা পুরস্কার-সংবর্ধনা। জন্ম ১৯০১-এর ১০ এপ্রিল শ্রীরামপুরে, মৃত্যু ১৯৮৬-র ১২ জুন, শান্তিনিকেতনের ‘রাস্কা’ বাসভবনে। ৫ এপ্রিল  ‘অহর্নিশ’ পত্রিকা তাঁকে স্মরণ করবে জীবনানন্দ সভাঘরে, বিকেল সাড়ে পাঁচটায়। আলোচনায় সুমিতা চক্রবর্তী ও শুভাশিস চক্রবর্তী। অমিয় চক্রবর্তীর রচনাপাঠে সত্যকাম বাগচী ও অনিন্দিতা বাগচী। প্রধান অতিথি কবি গৌতম বসু।

  

ফিরে পাওয়া

পাঁচ দশক পার করেও প্রদীপ ঘোষের আবৃত্তি, পাঠ ঘিরে বাঙালির মুগ্ধতা কমেনি। লংপ্লে রেকর্ড, ক্যাসেট হয়ে সিডি, তাঁর সুললিত স্বর বেজে চলেছে। ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশ থেকে শ্রোতাদের আমন্ত্রণে গিয়েছেন বার বার, বাংলাদেশ তো তাঁর দ্বিতীয় ঘর। কলকাতা দূরদর্শনের প্রথম দিনের একক আবৃত্তিশিল্পী তিনি। পেয়েছেন অগণিত সম্মান। রয়্যালটি দান করেছেন বাংলাদেশের অনাথ শিশুদের, মাদার টেরিজ়ার ‘নির্মল হৃদয়’-এ, ক্যানসার, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের। অসুস্থতা অগ্রাহ্য করে প্রবীণ শিল্পী আজও যে কোনও আড্ডা সরস করে তোলেন। স্টুডিয়োতে আর যেতে চান না, ‘শ্রোতাদের সঙ্গে প্রতারণা হবে’। অনেক অনুরোধে রবীন্দ্রনাথের দেশাত্মবোধক কবিতা পাঠের সঙ্কলন ‘রবীন্দ্র মননে মানসে আমার স্বদেশ’ সিডিটি (ভাবনা রেকর্ডস) করেছেন। ৪ এপ্রিল বিকেল পাঁচটায় প্রেস ক্লাবে সিডিটি প্রকাশ করবেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। থাকবেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পীরা। বেরোবে তাঁর আরও একটি সিডি, শিশুকিশোরদের উপযোগী রবীন্দ্র কবিতার। ‘‘এই আমার শেষ কাজ’’, বললেন প্রদীপ ঘোষ। 

 

হজরত মহল

১৮৫৭ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হলেও, বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান মুখ অওধের বেগম হজরত মহলকে নিয়ে কেমন যেন নীরবতা দেখা যায়। এক জন সাহসী ভারতীয় যিনি ব্রিটিশের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন, ব্রিটিশের ষড়যন্ত্রে ক্ষমতাচ্যুত স্বামী নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ কলকাতায় চলে যেতে বাধ্য হলে তিনি লখনউয়ে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই চালিয়ে যান। তিনিই ব্রিটিশের বিরুদ্ধে হিন্দু ও মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করতে উদ্যোগী হন। পরাজয়ের অসম্মান মেনে নিতে না পেরে তিনি নেপালের কাঠমান্ডুতে চলে যান, সেখানেই প্রয়াত হন ১৪০ বছর আগে, ৭ এপ্রিল ১৮৭৯। আজকের ভারতে জাতীয়তাবাদের জিগির তুলে যে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে বেগম হজরত মহলের  কথা নতুন করে আলোচনা হওয়া খুব দরকার। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘প্রতিবেশীকে চিনুন’ ও মানজিলাত’স-এর যৌথ উদ্যোগে ৭ এপ্রিল বিকেল ৫টায় মেটিয়াবুরুজ সিবতানাবাদ ইমামবাড়ায় অনুষ্ঠান।

 

লালন-সন্ধান

লালন ফকির তাঁর শ্রুতি ও স্মৃতিনির্ভর অক্ষরবিহীন গানের অবয়বে মানবমন ও শরীরের রহস্য এবং সত্য বিধৃত করে গিয়েছেন নানা রঙে, নানা ভাষায়, নানা রূপকে। এ সব গানই লালন সাঁইয়ের অলিখিত কোরান শরিফ ও হাদিস, বেদান্ত বিচার। এর উল্টো দিকে নাগরিক গবেষকের অনুসন্ধিৎসা লালনের গানের সাহিত্যগুণ, সামাজিক ভূমিকা, বা তাঁর জীবনের আবছায়া আখ্যান। এই দুইয়ের মধ্যে লালনের প্রকৃত অবস্থান ঠিক কোথায়, কী ভাবে মিলবে ধরন দু’টির আলাপের সমতল, সে খোঁজই দীর্ঘকাল করে চলেছেন শিক্ষক ও নাট্যকার সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় তাঁর গবেষণা ও পারফরম্যান্সের ভিতর দিয়ে। এই নিয়েই বলবেন তিনি এ বারের কল্পনির্ঝর বক্তৃতায়: ‘ডিসকার্সিভ বডি, এমবডিড আর্কাইভ: লুকিং ফর লালন ফকির’। গ্যোটে ইনস্টিটিউট, ম্যাক্সমুলার ভবনে ৫ এপ্রিল সন্ধে সাড়ে ৬টায়। অন্য দিকে, ভাদুকে ঘিরে সুদীপ্ত-র নাটক ‘ভাদ্রজা’ অভিনীত হবে ৪ এপ্রিল জ্ঞানমঞ্চে সন্ধে সাড়ে ৬টায়।

 

বিস্মৃত বাঙালি

ঘরসংসার করেননি, নাওয়াখাওয়ার খেয়াল থাকত না। তাঁর সমগ্র সত্তা জুড়ে ছিল ‘খেলা’, বিশিষ্টার্থে ফুটবল ও ক্রিকেট। এরিয়ান ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সারা জীবন পাকা জহুরির মতো খেলোয়াড় খুঁজে ফিরেছেন, তাদের তুলে এনে গড়েপিটে নিয়েছেন। গত শতকের প্রথমার্ধে ‘স্যর’ দুখীরাম মজুমদারের (১৮৬৫-১৯২৯) তৈরি করা ফুটবলার ও ক্রিকেটাররা দেশবিদেশের মাঠ কাঁপিয়েছেন। সামাদ কি সুঁটে বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর হিমশৈলের দু’টি চূড়ামাত্র। সেই বিস্মৃত শিক্ষককে নিয়ে হরিপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের স্যার দুখীরাম বইটি প্রকাশ করছে সূত্রধর। এক দশক ধরে সূত্রধর এমনই বহু বিস্মৃতপ্রায় বাঙালির পরিচয় ও তাঁদের রচনা গ্রন্থবদ্ধ করেছে। ৬ এপ্রিল সন্ধে ৬টায় ছাতুবাবু-লাটুবাবুর ঠাকুরদালানে ‘বিস্মৃত বাঙালি অগ্রপথিক স্মারক আলোচনাসভা ও গ্রন্থপ্রকাশ’ অনুষ্ঠানে ‘বাঙালির মনন-আভিজাত্য’ বিষয়ে বলবেন গোপা দত্তভৌমিক ও বিশ্বজিৎ রায়। প্রাককথনে অনুপ মতিলাল। ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় স্মারক সম্মান পাবেন সোমেন্দ্রচন্দ্র নন্দী। প্রকাশিত হবে অনেকগুলি বই।    

 

শতবর্ষে সুভাষ

‘‘পুরোনো বন্ধুরা দরকচা মেরে গেলে তাদের চনমনে ছটফটে ছেলেমেয়েরাই আমার কাছে মানুষ হয়ে গিয়েছিল। পরে তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে নকশাল হয়েছিল। আগুনে হাত পোড়াচ্ছে দেখে দুঃখ করেছি, তবু ভণ্ডামির মুখোশ খসিয়ে অন্ধকারে যে আশার আলো, তা দিয়েছে তাদের সততা।’’ বলেছিলেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়, নকশাল আন্দোলনে তাঁর সায় না থাকা সত্ত্বেও, সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন শঙ্খ ঘোষ। এটি-সহ কবির আর একটি সাক্ষাৎকার, তাঁর তিনটি গদ্যরচনা, জীবনপঞ্জি ও গ্রন্থপঞ্জি এবং তাঁকে নিয়ে রচিত উনপঞ্চাশটি প্রবন্ধের সমাহারে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশিত হবে ‘দিবারাত্রির কাব্য’ (সম্পা: আফিফ ফুয়াদ) পত্রিকা-র ‘শতেক স্মরণে সুভাষ মুখোপাধ্যায়’। ৫ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টায় ইন্দুমতী সভাগৃহে। প্রকাশিত হয়েছে ‘সাহিত্য অঙ্গন’ (সম্পা: জয়গোপাল মণ্ডল) পত্রিকারও ‘সুভাষ মুখোপাধ্যায় জন্মশতবর্ষ সংখ্যা’, তাতেও কবির অগ্রন্থিত গদ্য, কথোপকথন, তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণ ও রচনা।

 

বিদ্যালয়ে নাট্যচর্চা

বিষয়টি অভিনব। বিদ্যালয়ে নাট্যচর্চার ইতিহাস আর সম্ভাবনা— দুই দিকেই আলোকপাত করলেন বক্তা নাটককার তীর্থঙ্কর চন্দ। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কী ভাবে পূর্ণাঙ্গ মানুষ গড়ার কাজে নাট্যচর্চাকে শামিল করা যেতে পারে বোঝালেন। উঠে এল কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি হিসেবে থিয়েটারকে কাজে লাগানোর বহুমুখী প্রকল্পের কথা। আলোচিত হল শিশুনাট্যের নয়া দিগন্ত উন্মোচনে নান্দীকারের স্মরণীয় নানা উদ্যোগের ইতিবৃত্ত। সম্প্রতি বালিগঞ্জ জগদ্বন্ধু ইনস্টিটিউশনের প্রাক্তনী সংগঠনের উদ্যোগে, বাংলা মাধ্যমের শিক্ষাসংস্কৃতি বিষয়ে ‘উপেন্দ্রনাথ দত্ত স্মারক বক্তৃতা’র পঞ্চম পর্বে। অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করলেন নাট্য সমালোচক অংশুমান ভৌমিক এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাক্তনী শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘শিক্ষার সংকট: কী ভাবে মোকাবিলা করবে বাংলামাধ্যম’ বিষয়ে রুশতী সেনের গত বছরের বক্তৃতাটি সে দিন পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়। বিদ্যালয়ে নাট্যচর্চাকে উৎসাহিত করতে ২২ এপ্রিল দেবশঙ্কর হালদারের ‘কাল্লুমামা’ নাটকটি মধুসূদন মঞ্চে দেখানো হবে। 

 

মহাপথিক

আইনস্টাইন বলেছিলেন, ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান খঞ্জ, আর বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম অন্ধ। তিনি এটাও উপলব্ধি করেছিলেন, শরীরই মনের আসল নির্ণায়ক। তাই শারীরিক সংযম না এলে শ্রেণিহীনতা আসবে না, অসংযমীদের মধ্যে তখন আবার উত্তরোত্তর শ্রেণির জন্ম হবে। পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন, শ্রেণিহীন সাম্যবাদ নয়, শ্রেণিহীন অধ্যাত্মবাদই পৃথিবীকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে— এ রকমই বেশ কিছু বিষয় সংবলিত এবং বিদ্যাসাগর ও শ্রীরামকৃষ্ণের সাক্ষাৎকার বিষয়ক রচনানির্ভর নাটক ‘মহাপথিক’ মঞ্চস্থ হবে ২ এপ্রিল, সন্ধে ৬টায় গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের বিবেকানন্দ হল-এ। নাটকটির রচনা, নির্দেশনা ও অভিনয়ে সুব্রতনাথ মুখোপাধ্যায়। ভাবনা, নির্মাণ ও রূপায়ণে তাপস রায়। প্রযোজনায় থিয়েটার কমিউন।

 

নাট্যকারকে নিয়ে

বাবার ইচ্ছে ছিল ছেলে তাঁর মতো ব্যবসায়ী হবে। সাহিত্যে ঝোঁক দেখে বাবা অবশ্য লুইজি পিরানদেল্লোকে বাধা দেননি। রোম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও নানা কারণে তিনি বহিষ্কৃত হন। পরে জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। কয়েক বছর পর ব্যবসায় ক্ষতির ফলে তাঁদের পরিবার অর্থকষ্টে পড়ে। তাঁর স্ত্রীও মানসিক আঘাতে ভেঙে পড়েন। এর প্রভাব পড়ে তাঁর লেখায়। তাঁর জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, সেই সময়ের সমাজ সংস্কৃতি রাজনীতির ছবি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছে অনীক নাট্যদলের নতুন নাটক ‘পিরানদেল্লো ও পাপেটিয়ার’। ইটালিতে জাতীয় নাট্যশালা তৈরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে ফ্যাসিস্ট মুসোলিনির সমর্থক হয়ে ওঠা পিরানদেল্লোর শেষ জীবনের হতাশা, মোহভঙ্গ, প্রখ্যাত অভিনেত্রী মার্তা আব্বার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ইত্যাদি নিয়ে নাটকটি লিখেছেন চন্দন সেন, পরিচালনায় অনীক-এর সম্পাদক ও অভিনেতা অরূপ রায়। ১ এপ্রিল অ্যাকাডেমিতে সন্ধে সাড়ে ৬টায়।

 

আলোর রেখা

কমবয়সি ছেলেমেয়েদের ছবি তৈরি— প্রস্তুতি ও নির্মাণপর্ব, এ নিয়েই নাটক। ছোট ছোট কয়েকটি ছবি। ফলে ছবি আর নাটক, এ দুইয়েরই শিল্পরূপের প্রকাশ এ নাটকে। গঠন-আঙ্গিকের দিক থেকে থিয়েটার-ফিল্মের এই যে পারস্পরিকতা কিংবা আন্তঃসম্পর্ক, তা নতুন মাত্রা আনবে প্রযোজনাটিতে।’’ বলছিলেন সোহাগ সেন, অন্‌সম্বল-এর কর্ণধার, তাঁরই রচনা-নির্দেশনায় তাঁদের নতুন নাটক ‘ছোট ছবি’ মঞ্চস্থ হচ্ছে ৬ এপ্রিল সন্ধে সাড়ে ৬টায় জ্ঞানমঞ্চে। ‘‘নাগরিক নিঃসঙ্গতা নিয়ে ছবি করতে চায় তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা, কিন্তু এই চাওয়া কতটা তাদের নিজস্ব বোধ থেকে, না কি তা অনেকটাই বিদেশিদের মন পাওয়ার তাগিদে, এ সংশয় যেন জড়িয়ে থাকে তাদের ওই ছবি তৈরির সঙ্গে। যদি-বা শিল্পমনস্ক প্রযোজক মেলে, তাকে নিয়েও সমস্যা ঘনিয়ে ওঠে। নতুনরা ছবি তৈরির জগতে পা দেওয়ায় কী ধরনের সঙ্কটের মুখোমুখি হচ্ছে মূলত তা নিয়েই এ নাটক।’’ সোহাগ সেন শিল্পজীবন শুরু করেছিলেন ধ্রুপদী নৃত্যের মাধ্যমে, ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন নাটক ও চলচ্চিত্রের অবিসংবাদী অভিনেত্রী, এখন তিনি শিল্পকলার শিক্ষয়িত্রী। ১৯৭৭ থেকে নাটক নির্দেশনা শুরু, ১৯৮৩-তে গঠন করেন নিজস্ব নাট্যদল ‘অন্‌সম্বল’, বরাবরই তাঁদের বৌদ্ধিক নাট্যচর্চায় উঠে আসে বিপন্ন ব্যক্তিমানুষ, সামাজিক আঁধার আর ক্ষীণ আলোর রেখা। “তবু যেন নিখাদ শিল্পচর্চা আজ মাঝেমধ্যেই অগভীর কোনও পরিক্রমার দিকে ঝুঁকে যেতে চায়।” খেদ সোহাগ সেনের স্বরে।