বুধবার সকালে কলকাতা থেকে মাদক-সহ ধৃত বলিভিয়ার বাসিন্দা সোউসেডো চাও ইয়েনি-র ঘটনায় দিল্লির এক ট্র্যাভেল এজেন্টকে খুঁজছেন গোয়েন্দারা।

নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) সূত্রের খবর, বিমানবন্দরের কাছে ইয়েনির হোটেল বুক করেছিলেন দিল্লির ওই এজেন্ট। এক এনসিবি কর্তার কথায়, ‘‘কে তাঁকে ওই হোটেল বুক করতে বলেছিলেন, তা নিশ্চই ওই এজেন্ট জানবেন।’’ ১৪ কোটি টাকার কোকেন সমেত ধৃত এই বিদেশিনিকে বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

বুধবার সকালে ইয়েনি কলকাতায় নামার পরে জানান, তিনি বিমানবন্দরের বাইরে বেরোলে এক ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে ওই মাদক নিয়ে যাবেন। সেই কারণে বিমানবন্দরের বাইরে ইয়েনিকে একা ছেড়েও দেওয়া হয়। কিন্তু দূর থেকে নজর রাখছিলেন অফিসারেরা। দেড় ঘণ্টা ইয়েনি দাঁড়িয়ে থাকার পরেও কেউ আসেননি। তা থেকে গোয়েন্দাদের সন্দেহ, ইয়েনি ধরা পড়ার খবর আগাম পেয়ে গিয়েছেন পাচারকারীরা।

এনসিবি-র এক অফিসারের কথায়, ‘‘ইয়েনির কাছ থেকে একটি হোটেলের বুকিং স্লিপ মিলেছে। সেই হোটেলে গিয়ে জানা যায়, দিল্লির একটি মোবাইল ফোন থেকে হোটেল বুক করা হয়েছে। ওই নম্বরটি আইডিয়া-র। আইডিয়াকে ফোন করে জানা গিয়েছে, নম্বরটি দিন কয়েক আগেই এয়ারটেল-এ পোর্ট আউট হয়েছে।’’ এয়ারটেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে দিল্লির ওই ট্র্যাভেল এজেন্টের নাম ও ঠিকানা পাওয়া যায়। দিল্লির এনসিবি-কে সেই তথ্য দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, আজ, শুক্রবার পর্যন্ত ওই হোটেলে থাকার কথা ছিল ইয়েনির।

ইয়েনি জেরায় জানিয়েছেন, তিনি বিবাহ-বিচ্ছিন্না। ৬ ছেলের মধ্যে বড় তিন জন নিজেদের রুটি-রুজির সন্ধানে চলে গিয়েছেন। বাকি তিন ছেলেকে নিয়ে তিনি বলিভিয়ায় থাকেন। ইয়েনি নিজে ক্যানসারে আক্রান্ত। তদন্তকারীরা তাঁর কাছে ক্যানসার সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চাইলে তা অবশ্য তিনি দেখাতে পারেননি। অফিসারদের সন্দেহ, শুধু সহানুভূতি আদায় করার জন্য ক্যানসারের ‘গল্প’ ফাঁদতে পারেন ইয়েনি।