যত্রতত্র রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুলের গাড়ি, পুলকারের বিরুদ্ধে পর পর দু’দিন রাস্তায় নেমেছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। আর তার জেরেই অবস্থার কিছুটা উন্নতি হল বুধবার। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, পুলিশ কড়া না হলে ফের শুরু হবে স্কুলগাড়ির উৎপাত। 

বাড়ির সামনের রাস্তায় স্কুলগাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায়, প্রতিবাদে সোমবার রাস্তায় নামেন বালিগঞ্জ প্লেসের বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁরা কর্নফিল্ড রোড এবং সুইনহো স্ট্রিটের মোড়ের সংযোগস্থল অবরোধ করেন। মঙ্গলবার দিন রাস্তায় নামেন সেভেন ব্লক কর্নফিল্ড রোড হোম ওনার্স কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যেরা। বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, পরপর দু’দিনের প্রতিবাদের পরে বুধবার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। বাস কিংবা স্কুলগাড়ি এ দিন সেখানে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ায়নি। বালিগঞ্জ প্লেসের বাসিন্দা প্রাক্তন শিক্ষিকা শিপ্রা বসু জানান, স্কুল ছুটি বা শুরুর সময় সুইনহো স্ট্রিটে গাড়ি পার্কিং করা না হলেও বালিগঞ্জ প্লেসে স্কুলের গাড়ি দাঁড়িয়েছিল। সেভেন ব্লক কর্নফিল্ড রোডের বাসিন্দা শ্রীরূপা দাশগুপ্তের। তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশের তৎপরতায় আগে এক বার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল। পরে অবশ্য অবস্থা একই তিমিরে ফিরে যায়।’’

সাউথ পয়েন্ট স্কুলের প্রাথমিক বিভাগ রয়েছে ম্যান্ডেভিলা গার্ডেন্সে। অন্য দিকে হাইস্কুলটি বালিগঞ্জ প্লেসে। দু’টি স্কুলেই সকাল এবং দুপুর— দু’ দফায় ক্লাস হয়। বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, রোজ ভোর থেকে স্কুলের আশেপাশের রাস্তায় গাড়ি পার্ক করা থাকে। অভিযোগ, এর জেরে এলাকার বাসিন্দাদের গাড়ি বেরোতে বা ঢুকতে পারে না। 

ট্র্যাফিক পুলিশ জানিয়েছে, পরপর দু’দিন এলাকার বাসিন্দাদের বিক্ষোভের ফলে বুধবার সকাল থেকেই স্কুলের অভিভাবকদের গাড়ির সংখ্যাও ছিল কম। স্কুলগাড়িও ওই রাস্তায় পার্কিং করা হয়নি। স্কুলগাড়ি শুধুমাত্র বাচ্চাদের নামা-ওঠা করিয়ে চলে গিয়েছে। ওই এলাকায় আরও বেশি সংখ্যক ট্র্যাফিক পুলিশের কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

লালবাজার সূত্রের খবর, মঙ্গলবারের রাস্তা অবরোধের জেরে এলাকার তিন প্রবীণ বাসিন্দা-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে জমায়েতের মামলা দায়ের করা হয়েছে। শ্রীরূপাদেবী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় যা যা করার করা হবে। অন্য দিকে পুলিশের তরফে ডেপুটি কমিশনার কল্যাণ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ওই সমস্যা সমাধানের জন্য বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা হতেই পারে।