গত সপ্তাহের গোড়ায় যতীন্দ্রমোহন অ্যাভিনিউয়ে অ্যাপ-ক্যাব চালকের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন জোড়াবাগান ট্র্যাফিক গার্ডের এক সার্জেন্ট। চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ট্র্যাফিক সিগন্যাল ভেঙেছিলেন।
ওই ঘটনার ঠিক চার দিনের মাথায়, শনিবার রাতে ফের শহরের বুকে আক্রান্ত হলেন এক আইনরক্ষক। ঘটনাটি ঘটেছে নারকেলডাঙা থানা এলাকার আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোড এবং গড়পার রোডের মোড়ে। অভিযুক্ত দুই যুবককে অবশ্য রবিবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধেও ট্র্যাফিক সিগন্যাল ভাঙার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, শনিবারের ঘটনায় নিগৃহীত পুলিশকর্মী নারকেলডাঙা থানায় মোটরবাইক চালক এবং আরোহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তার ভিত্তিতেই রবিবার রাজাবাজার থেকে ধরা হয় দুই অভিযুক্ত মহম্মদ ইসমাইল ওরফে বিশাল এবং মহম্মদ আজহারউদ্দিন ওরফে প্রিন্সকে। সরকারি কৌঁসুলি অরূপ চক্রবর্তী জানান, ধৃতদের সোমবার শিয়ালদহ আদালতে তোলা হয়েছিল। তাদের জেরা করে যাতে মোটরবাইকটি উদ্ধার করা যায়, সে জন্য পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। বিচারক ধৃতদের ছ’দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোড এবং গড়পার রোডের সংযোগস্থলে ডিউটি করছিলেন উল্টোডাঙা ট্র্যাফিক গার্ডের হোমগার্ড মহম্মদ পাঁচু। রাত আটটা নাগাদ তাঁর চোখে পড়ে, একটি মোটরবাইক সিগন্যাল ভেঙে রাজাবাজারের দিকে যাচ্ছে। বাইকটিকে আটকান ওই পুলিশকর্মী। চালক বিশালের কাছে গাড়ির নথিপত্র দেখতে চান। অভিযোগ, কেন তাদের আটকানো হয়েছে জানতে চেয়ে ওই পুলিশকর্মীর সঙ্গে প্রথমে বচসা শুরু করে বিশাল। পরে গালিগালাজ করে। এক তদন্তকারী অফিসার জানিয়েছেন, বচসার মাঝেই অভিযুক্তেরা হোমগার্ডের উর্দি ধরে টানাটানি শুরু করে বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, এক অভিযুক্ত ওই পুলিশকর্মীর হাত ধরে টানে।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

সূত্রের খবর, তাদের এক সহকর্মীকে নিগ্রহ করা হয়েছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ বাহিনী। ততক্ষণে অবশ্য এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছে বিশাল ও প্রিন্স। পরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশের একটি অংশ জানিয়েছে, রাজাবাজার ও নারকেলডাঙা এলাকায় কিছু দিন ধরেই মোটরবাইকে এসে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে অভব্যতা করার অভিযোগ উঠছে স্থানীয় একদল যুবকের বিরুদ্ধে। শনিবারও আইন ভেঙে ওই হোমগার্ডকে গালিগালাজ করেছিল অভিযুক্তেরা।