লেক টাউন, বাঙুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার সঙ্গী নিত্য যানজট। যা চরমে ওঠে পুজোর সময়ে। পাল্লা দিয়ে দুর্ভোগ বাড়ে মানুষের। কারণ, ওই এলাকায় একাধিক বড় পুজো রয়েছে। এই সমস্যার সমাধানে একটি উড়ালপুল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। উল্টোডাঙার গোলাঘাটা থেকে দমদম পার্ক পর্যন্ত ওই উড়ালপুল তৈরির দরপত্র আহ্বান করা হবে শীঘ্রই। কৈখালি থেকে বিমানবন্দরের আড়াই নম্বর গেট পর্যন্ত আর একটি উড়ালপুলের পরিকল্পনা অবশ্য আটকে রয়েছে জমি-সমস্যার কারণে।

এখন দমদম পার্ক থেকে রঘুনাথপুর পর্যন্ত একটি উড়ালপুল রয়েছে। তাতে বিমানবন্দরগামী গাড়িগুলির প্রাথমিক ভাবে কিছুটা সুবিধা হলেও তা যথেষ্ট বলে মনে করছে না পূর্ত দফতর। দফতরের কর্তাদের একাংশের ব্যাখ্যা, উল্টোডাঙা থেকে লেক টাউন-বাঙুর হয়ে বিমানবন্দরের দিকে যেতে এখন যানজটের কারণে অনেক বেশি সময় লাগছে। ফলে বর্তমান উড়ালপুলটি পুরোপুরি কার্যকরী হচ্ছে না। তাঁদের ধারণা, গোলাঘাটা থেকে দমদম পার্ক পর্যন্ত যে উড়ালপুল তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাতে যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। কারণ, পরিকল্পিত উল্টোডাঙা-দমদম পার্ক উড়ালপুলটি পৌঁছে যাবে দমদম পার্ক-রঘুনাথপুরের বর্তমান উড়ালপুলের সামনে। দু’টি উড়ালপুলের মধ্যে একটি সিগন্যাল-ক্রসিং থাকবে। বিমানবন্দরগামী গাড়ি উল্টোডাঙা থেকে উড়ালপুল ধরে প্রায় সরাসরি বিমানবন্দরের কাছে পৌঁছে যেতে পারবে। আবার নতুন উড়ালপুল থেকে নেমে ক্রসিং ব্যবহার করে যাওয়া যাবে কেষ্টপুর বা বাগুইআটির দিকে।

পূর্ত দফতরের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘শহরের জনসংখ্যা এবং গাড়ি যে ভাবে বাড়ছে, তাতে এই সিদ্ধান্ত নিতেই হত। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে পুজো, উৎসব-সহ একাধিক কারণে যানজট আরও বেড়ে যায়। রাস্তা বাড়ানোর উপায় যেহেতু নেই, তাই এমন স্কাইওয়াক এই সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট কার্যকরী হয়। সর্বোপরি এটা রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার অঙ্গ।’’ প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ওই এলাকার এমনই পরিস্থিতি যে, দমদম পার্ক এবং লেক টাউনে নতুন দু’টি সাবওয়ে তৈরির পরিকল্পনা করতে হয়েছে। সল্টলেক স্টেডিয়ামের সামনে বক্স-সাবওয়ের ধাঁচে সেগুলি তৈরির কাজ শুরু হবে শীঘ্রই।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত গোলাঘাটা-দমদম পার্ক উড়ালপুলের বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরির কাজ শেষ। ২.২ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই উড়ালপুলের নকশাও প্রস্তুত। নির্মাণের সময়ে সম্ভাব্য যানজট সমস্যা মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পরে দরপত্র ডাকা হবে। এখনও পর্যন্ত প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে নির্মাণ সংস্থাকে কাজের দায়িত্ব দেওয়ার পরে খরচ চূড়ান্ত হবে।

তবে রাজ্যের পরিকল্পনায় থাকা আর একটি নতুন উড়ালপুল জমি-জটে আটকে রয়েছে বলে খবর। কৈখালি থেকে বিমানবন্দরের আড়াই নম্বর গেট পর্যন্ত আনুমানিক দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ওই উড়ালপুলটি তৈরি হওয়ার কথা। তার জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জমি চাওয়া হয়েছে। যত দিন না সেই অনুমতি না পেলে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না বলে আধিকারিক সূত্রের খবর। ওই উড়ালপুলটি হলে কৈখালি থেকে বিমানবন্দর পার করে বারাসতের দিকে যেতে সুবিধা হবে মানুষজনের।