ভূগর্ভস্থ জলস্তর ক্রমশ নামছে শহরে। অথচ দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশই পানীয় জলের জন্য গভীর নলকূপের উপরে নির্ভরশীল। মাটির নীচ থেকে ক্রমাগত জল তোলার জেরে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশনে এই মর্মেই সরব হলেন বাম কাউন্সিলর চয়ন ভট্টাচার্য।

এর প্রেক্ষিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমও স্বীকার করেন, পানীয় জলের সরবরাহ যতটা দরকার, ততটা এখনও করা হয়ে ওঠেনি। এর আগে আরও দু’টি প্রশ্নের উত্তরে মেয়র জানান, গার্ডেনরিচ জল প্রকল্পের ক্ষমতা বাড়াতে ইতিমধ্যে পুরসভা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। সেই প্রকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত কয়েকটি ওয়ার্ডে জলের সমস্যা থাকবেই। প্রসঙ্গত, ভোটে জিতে এ দিন ফিরহাদ কাউন্সিলর হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

এ দিন চয়নবাবু জানান, তাঁর ওয়ার্ড-সহ অন্য অনেক জায়গাতেই জলের জন্য গভীর নলকূপই ভরসা। কিন্তু জলস্তর ক্রমশ নামতে থাকায় অনেক গভীর নলকূপ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ১১১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি নলকূপ খারাপ হওয়ায় জলকষ্ট শুরু হয়েছে। অনেক আবাসনে আবার বেআইনি ভাবে জলের সংযোগ নেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। উত্তরে ফিরহাদ বলেন, ‘‘যতটা দরকার, ততটা করতে পারিনি। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার বন্ধ করা হবে। এ নিয়ে পরিকল্পনার জন্য জল সরবরাহ দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেছি।’’

এ দিনের অধিবেশনে ঢাকুরিয়া সেতুর কাছে ‘মুভেবল’ কমপ্যাক্টর বসানোর প্রস্তাব দেন আর এক বাম কাউন্সিলর মধুছন্দা দেব। আগে ওই জায়গায় ভ্যাট ছিল। তার ফলে ইঁদুরের আনাগোনায় সেতুর ক্ষতি হওয়ায় সেটি সরানো হয়। কিন্তু তাতে সেতুর আশপাশে নোংরা জমছে বলে জানান মধুছন্দাদেবী। উত্তরে মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার জানান, সেতুর কাছে রাস্তার দু’পাশে বাগান করে দেওয়া হবে। আবর্জনা সংগ্রহ করতে ব্যাটারিচালিত গাড়িও দেবে পুরসভা।