মা উড়ালপুলের ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে অন্য লেনে উঠে গেল খোদ পুলিশের গাড়ি। রবিবার সকালের এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাড়িটি। তবে রক্ষা পেলেন গাড়িচালক এবং ফুলবাগান থানার ওসি-র দেহরক্ষী। আহত দু’জনকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়িটির গতি যথেষ্ট বেশি ছিল। তা সত্ত্বেও রাত পর্যন্ত গাড়িচালকের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও।

পুলিশ সূত্রের খবর, রবিবার সকালে ফুলবাগান থানার ওসি করুণাশঙ্কর সিংহকে তাঁর বাড়ি থেকে আনতে যাচ্ছিল গাড়িটি। চালক ছাড়াও ছিলেন ওসির দেহরক্ষী তথা ফুলবাগান থানার এক কনস্টেবল। সকাল আটটা নাগাদ গাড়িটি সায়েন্স সিটির দিক থেকে উড়ালপুল ধরার কিছু পরেই বাঁ দিকে ডিভাইডারে ধাক্কা মারে। তদন্তকারীরা জানান, গাড়ির গতি বেশি থাকায় বাঁ দিকের ডিভাইডারে ধাক্কা মেরেই ডান দিকে ঘুরে অন্য লেনে চলে আসে। ওই সময়ে সামনে বা পিছনে কোনও গাড়ি চলে এলে অথবা ধাক্কার অভিঘাতে সেটি নীচে পড়ে গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটত বলে জানিয়েছেন তাঁরা। এ দিন সকালে ব্যাপক বৃষ্টির জেরে মা উড়ালপুলে জল জমে যায়। তদন্তকারীদের অনুমান, দ্রুত গতিতে চলা গাড়িটি বৃষ্টিতে চাকা পিছলে ব্রেক ফেল করেছিল।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তিলজলা ট্র্যাফিক গার্ডের কর্তব্যরত সার্জেন্টরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। ক্রেন দিয়ে গাড়িটিকে প্রগতি ময়দান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকেই গাড়িচালকের লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করেছে ট্র্যাফিক পুলিশ। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে নিয়ম মতো সংশ্লিষ্ট থানা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। আটক করা হয় গাড়িটিকে। অথচ প্রগতি ময়দান থানা এ দিন ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই গাড়িটি ছেড়ে দেয়। চালকের বিরুদ্ধেও কোনও অভিযোগও দায়ের হয়নি।

কেন অভিযোগ হল না? কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্র্যাফিক) অখিলেশ চতুর্বেদী বলেন, ‘‘গাড়িচালকের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। তাই পুলিশও অভিযোগ দায়ের করেনি।’’ তদন্তকারীরাই জানিয়েছেন, গাড়ির গতি বেশি থাকায় চালক উড়ালপুলের এক লেন থেকে অন্য লেনে চলে গিয়েছিলেন। এ ধরনের দুর্ঘটনায় পুলিশ তো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে চালকের বিরুদ্ধে মামলা করে? এর উত্তর অবশ্য এড়িয়ে গিয়েছেন যুগ্ম কমিশনার (ট্র্যাফিক)।