মেট্রোর নিত্যযাত্রী বেহালার বাসিন্দা অমিত ভাওয়াল। এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনে নেমে সকাল ১১টার মধ্যে তাঁকে অফিসে ঢুকতে হয়। বেশ কিছু দিন ধরেই তিনি লক্ষ করছিলেন, এসপ্ল্যানেড আসার আগেই মেট্রোর গতি যেন কমে যাচ্ছে।

কৌতূহলবশত পাশের এক যাত্রীকে তিনি বিষয়টি বলেন। ওই যাত্রীও অমিতকে জানান, ঠিকই বলেছেন দাদা। আমারও তাই মনে হচ্ছিল। কেন বলুন তো? শুধু এই দুই যাত্রী নয়, মেট্রোর গতি কমা নিয়ে এখন নানা আলোচনা চলছে যাত্রীদের মধ্যে। কখন যে এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনের তলা দিয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট রুটের মেট্রোর সুড়ঙ্গ খোড়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে, তা অনেকেরই অজানা। সে কারণেই ওই এলাকা দিয়ে ধীর গতিতে চলছে মেট্রো।

হাওড়া ময়দান থেকে গঙ্গার তলা দিয়ে এসপ্ল্যানেডে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সুড়ঙ্গ পৌঁছতে ২৩ মাস লেগেছিল। এ বার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। অনেক বাধা পেরিয়ে ধর্মতলা থেকে সুড়ঙ্গ নিয়ে যাওয়া হবে শিয়ালদহে। প্রায় ৭০০ বাড়ির নিচ দিয়ে যাবে এই আড়াই কিলোমিটারের সুড়ঙ্গ। তার মধ্যে যেমন পুরনো বাড়ি রয়েছে, তেমনই এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনের রয়েছে পাঁচটি স্টিলের স্তম্ভ।

আরও পড়ুন: বিশ্বে দ্রুত উন্নয়নশীল শহরের তালিকায় প্রথম দশটি ভারতের

এসপ্ল্যানেড স্টেশনের উপরে রাস্তার ভার ধরে রাখার জন্যে এই স্তম্ভগুলি তৈরি করা হয়েছিল। তাই অত্যন্ত সাবধানে সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ চলছে।

এই বাধা কি অতিক্রম করা সম্ভব? কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশনের এক কর্তার কথায়: “এসপ্ল্যানেড মেট্রোর তলায় স্টিলের স্তম্ভ থাকলেও, সমস্যা হওয়ার কথা নয়। অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে মাটির তলায় কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।”

আরও পড়ুন: বিজেপির হয়ে এ বার ভোটে লড়ছেন মাধুরী দীক্ষিত?​

টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম)-এর মাধ্যমে হাওড়া থেকে এসপ্ল্যানেডে পর্যন্ত সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এসপ্ল্যানেডের তলায় দিয়ে সু়ড়ঙ্গ করার জন্যে, এখনই ‘টানেল বোরিং মেশিন’ (টিবিএম) ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

এর বদলে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার জন্যে ‘নিউ অস্ট্রিয়ান টানেলিং মেথ়ড’ (এনএটিএম) ব্যবহার করা হচ্ছে। ছোট সুড়ঙ্গ তৈরি করার পর টিবিএম পদ্ধতিতে কাজ শুরু হবে। তার জন্য অবশ্য এসপ্ল্যানেডে স্টেশনে মেট্রো চলাচলের গতি কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

(ইতিহাসের পাতায় আজকের তারিখ, দেখতে ক্লিক করুন — ফিরে দেখা এই দিন।)

মেট্রো রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এখন এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনের নিচ দিয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সুরঙ্গ তৈরির কাজ চলছে। তাই এসপ্ল্যানেড স্টেশনে মেট্রো যাতায়াতের সময় গতি কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাতে অবশ্য সমস্যা হওয়ার কারণ নেই।” উল্লেখ্য, হাওড়া ময়দান থেকে বিধাননগরের করুনাময়ী পর্যন্ত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো দীর্ঘ প্রায় ১১ কিলোমিটার।