চিৎপুরের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার স্কুলবাসের নথি পরীক্ষা শুরু করল উত্তর ২৪ পরগনা পরিবহণ দফতরও। স্কুলবাস ছাড়াও যে পড়ুয়ারা স্কুলগাড়িতে যাতায়াত করে, সেগুলির ফিটনেস সার্টিফিকেট আছে কি না তা-ও নিয়মিত পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে তারা। দফতর সূত্রের খবর, গত দু’দিন জেলায় ৪০টি স্কুলগাড়ি পরীক্ষা করার পরে সাতটি এমন গাড়ি ধরা পড়েছে, যেগুলির কাগজপত্র ঠিকঠাক নেই। আঞ্চলিক পরিবহণ অধিকর্তা অনন্ত সরকার বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘সাতটির মধ্যে চারটি গাড়ির নামে মামলা রুজু হয়েছে। বাকি তিনটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে সেগুলির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।’’

গত সোমবার চিৎপুরে স্কুলবাস উল্টে জখম হয় হোলি চাইল্ড স্কুলের ১৪ জন ছাত্রী ও ছ’জন অভিভাবক। আহত হন বাসচালক ও এক পথচারীও। তদন্তে উঠে আসে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটির ফিটনেস সার্টিফিকেট ছিল না। এর পরেই শহরে ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া যে সব স্কুলবাস ও স্কুলগাড়ি যাতায়াত করছে, সেগুলির বিরুদ্ধে অভিযানের নির্দেশ দেয় লালবাজার। জেলার স্কুলবাস এবং গাড়ির নথি পরীক্ষা ও প্রয়োজনে ধরপাকড়েরও নির্দেশ আসে।

দুর্ঘটনার কবলে পড়া স্কুলবাসটির কাগজপত্র পরীক্ষা করে আরও জানা গিয়েছে, সেটি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত পরিবহণ দফতরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত। এ দিন পরিবহণ অধিকর্তা জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের সুরক্ষা বাড়াতে জেলার স্কুলগুলির সঙ্গে বৈঠক করা হবে। গাড়ি পরীক্ষা ছাড়াও কিছু পদক্ষেপ করা হবে। স্কুলগাড়ি এবং বাসের পরিকাঠামো ঠিক আছে কি না, তা দেখার জন্য যৌথ অভিযান চালাবে পরিবহণ দফতর ও পুলিশ। চালকদের নিয়ে সচেতনতা-বৈঠক এবং ট্র্যাফিক প্রশিক্ষণ স্কুলে কর্মশালাও করা হবে।