রাত বাড়লেই গোটা দল নিয়ে ‘তেনারা’ হাজির হচ্ছেন!

এলাকায় ঢুকে ধুপধাপ করে ঝাঁপ মারছেন এক বাড়ির ছাদ থেকে আর এক বাড়ির কার্নিসে। টব উল্টে, জানলায় ধাক্কা মেরে সকলের ঘুম ভাঙাচ্ছেন। সকালে দলের কয়েক জন এলাকা পরিদর্শনে বেরোলেও বাকিরা স্থানীয়দের রাখছেন কড়া নজরে।

হনুমানের দলের এ হেন আচরণেই এখন নাজেহাল বেলঘরিয়ার মানসবাগ এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা জানান, সপ্তাহ দু’য়েক ধরে এলাকায় উপদ্রব শুরু করেছে প্রায় ১৫টি হনুমান। গাছ-গাছালিতে ভরা মানসবাগে পাকাপাকি ভাবে বসবাস শুরু করেছে ওই হনুমানেরা এক পাশে বিটি রোড আর এক পাশে নীলগঞ্জ রোড—এর মাঝেই রয়েছে কামারহাটি পুরসভার মানসবাগ এলাকা।

বাসিন্দারা অবশ্য জানান, প্রাথমিক ভাবে তাঁরাই বাচ্চা, বড় হনুমানদের খাওয়াদাওয়া দিয়ে আস্কারা দিয়েছিলেন। তাতেই প্রশ্রয় পেয়েছে তারা।

কী রকম? বাসিন্দারা জানান, সকালে বাড়ির ছাদে পায়চারি করার সময় শুকোতে দেওয়া জামাকাপড় বগলদাবা করে চম্পট দিচ্ছে। আবার ঘর খোলা পেলেই সটান ঢুকে খাবারে ভাগ বসাচ্ছে। বাগে আনতে হনুমানদের ফল দিয়ে আর এক বিপত্তি বেধেছে। এক বাসিন্দা অভিজিৎ চাকলাদার বলেন, ‘‘আপেল, কলা অর্ধেক খেয়ে তা আবার ছুঁড়ে মারছে হনুমানেরা।’’ কারও বাড়িতে সাধ করে লাগানো সজনে ডাঁটা গাছের ফুলও খেয়ে পালাচ্ছে হনুমান। রাস্তায় বেরিয়ে দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে আসা হনুমানের তাড়া খেয়েছেন কলেজ পড়ুয়া অনুষ্কা মিত্র। ইতিমধ্যে এলাকার একটি বাচ্চা হনুমানের কামড়ও খেয়েছে। বাসিন্দারা জানান, সকালের দিকে পাশের এলাকায় দেশপ্রিয় নগর, পাঞ্জা ভিলার দিকেও ঘুরতে দেখা যাচ্ছে হনুমান বাহিনীকে।

সকালে সংখ্যায় কম থাকলেও রাত হলেই দল ভারী হচ্ছে হনুমানদের। সকলে মিলে এসে বাতিস্তম্ভে, গাছের ডালে, ছাদের কার্নিস, জানালায় বসে থাকছে। এমনকি সকালে ঘুম থেকে উঠে বাসিন্দারা দেখছেন জলের পাইপও ভেঙে দিয়েছে। এ সবের পরে রানা মিত্র নামে জনৈক বাসিন্দার মজার মন্তব্য, ‘‘সিসি ক্যামেরাও তো ভেঙে দিয়েছে। এরাও কি প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করে?’’ 

এত হনুমান কোথা থেকে তাঁদের এলাকায় এল তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন মানসবাগের বাসিন্দারা। একাংশে‌র দাবি, বহু দিন ধরেই দক্ষিণেশ্বরে থাকা হনুমানের দল এখন ভেঙে গিয়েছে। সেখান থেকেই কয়েক জন নানা এলাকায় ঘুরছে। উত্তর ২৪ পরগনার বিভাগীয় 

বনাধিকারিক অংশুমান মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সাধারণত খাবারের জন্য এক-দু’টো বীর হনুমান মাঝেমধ্যে এলাকায় হানা দেয়। কিন্তু দল বেঁধে এত হনুমান একটা এলাকায় কেন, তা খতিয়ে দেখতে দফতরের কর্মী পাঠানো হবে।’’