বৃষ্টি নেই। তা সত্ত্বেও দিনভর জল জমে রয়েছে রাস্তা জুড়ে। জলে ডুবে রাস্তার বিটুমিন ক্ষয়ে গিয়ে দফারফা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যান্ড রোডের।

কলকাতা থেকে স্ট্র্যান্ড রোড ধরে হাওড়া সেতুতে উঠতেই উত্তর বন্দর থানা। জল দাঁড়িয়ে ভয়াবহ অবস্থা সেখানে। অভিযোগ, উত্তর বন্দরের থানার সামনে নিকাশি নালা সংস্কারের অভাবেই গালিপিট থেকে জল উপচে রাস্তায় জমে থাকছে। তার জেরে পথচারীরা হাঁটাচলা করতে বাধ্য হচ্ছেন রাস্তা দিয়ে। তাতে আবার বাড়ছে যানজটও।

পুলিশ সূত্রের খবর, একটু বৃষ্টিতেই উত্তর বন্দর থানার সামনে প্রায় হাঁটু জল জমে যায়। বৃষ্টির জেরে বাবুঘাট থেকে স্ট্র্যান্ড রোডে দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে গাড়ি। কিন্তু বৃষ্টি থামলেও রেহাই নেই। সোমবার দুপুরে উত্তর বন্দর থানার সামনে গিয়ে দেখা গেল ফুটপাত ডুবে আছে জলে। থানার সামনের ফুটপাত ডুবে থাকায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন। ফলে বাড়ছে আরও বিপত্তি। কর্তব্যরত এক ট্র্যাফিক সার্জেন্টের কথায়, ‘‘বৃষ্টি না হওয়া সত্ত্বেও জল জমে থাকায় এই এলাকায় যানজট নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’

কলকাতা পুরসভার সূত্রের খবর, উত্তর বন্দর থানার সামনের এলাকা ওই চত্বরে সবচেয়ে নিচু জায়গা। বৃষ্টি হলেই আশপাশের জল উত্তর বন্দর থানার সামনের গালিপিট দিয়ে বেরোয়। কিন্তু বৃষ্টি না হলেও কেন উত্তর বন্দর থানার সামনে স্ট্র্যান্ড রোডে জল জমে থাকছে?

কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের এক পদস্থ ইঞ্জিনিয়ারের কথায়, ‘‘গঙ্গার লাগোয়া ওই এলাকায় নিকাশি নালায় প্রচুর পলি জমে। আগে ম্যানহোলে লোক ঢুকিয়ে পলি পরিষ্কারের কাজ হত। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আদেশে ম্যানহোলে কাউকে নামিয়ে কাজ করানো যাচ্ছে না। এখন যন্ত্রই ভরসা। কিন্তু যন্ত্র দিয়ে পলি তোলার কাজ সম্পূর্ণ হচ্ছে না।’’ তবে জল জমার জন্য মল্লিকঘাটের ফুল ব্যবসায়ীদের দিকেই আঙুল তুলছেন অনেকেই। অভিযোগ, মল্লিকঘাট থেকে ফুল, পাতা পড়ে গালিপিট বন্ধ হয়ে গিয়েছে অনেক জায়গায়। ফলে নিকাশির জল বেরোতে পারে না। পুরসভা সূত্রের খবর, মাসখানেক আগে উত্তর বন্দর থানার সামনে নিকাশি নালা পরিষ্কারের কাজ হয়েছিল। তা সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি।

উত্তর বন্দর থানার এক আধিকারিক বলেন, ‘‘থানার সামনে ২৪ ঘণ্টা জল জমে থাকায় ভীষণ সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয় কাউন্সিলরকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলাম। মাসখানেক আগে পুরসভা এসে কাজ করেও গেলেও ফের জল জমে থাকছে।’’

কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (নিকাশি) তারক সিংহ সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘উত্তর বন্দর থানার সামনে জল জমার সমস্যা দূর করতে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব।’’