একে দেখেছেন?

মোবাইলে ছবি দেখে, পুলিশের প্রশ্ন শুনে বাড়ির মালিক জবাব দিলেন, ‘‘হ্যাঁ, চিনি তো। ইনি এ তো শ্যামল দে। ভাড়া থাকে আমাদের বাড়িতে।’’

ওর নাম মনোতোষ দে,’’ জবাব দিলেন পুলিশ অফিসার। ‘‘সে কি, নাম ভাঁড়িয়ে ভাড়া নিয়েছিল?’’— বিস্মিত গৃহকর্তা দেবাশিস চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী সুস্মিতা।

মঙ্গলবার কলকাতা থেকে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলার দুই সদস্য-সহ ধরা পড়েছে যে তিনজন, তাদের মধ্যে আছে মনোতোষও। তবে আল কায়দা প্রভাবিত বাংলাদেশি এই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ পায়নি পুলিশ। জানা গিয়েছে, অস্ত্রের কারবার আছে মনোতোষের। দুই বাংলাদেশি তার কাছে অস্ত্র কিনতেই এসেছিল।

মনোতোষ আড়াই হাজার টাকা ভাড়ায় কয়েক মাস আগে বসিরহাটের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৈত্রবাগান এলাকার ওই বাড়িটি ভাড়ায় নেয়। সে সময়ে নাম জানিয়েছিল শ্যামল দে। তার সঙ্গে দুই মহিলা থাকত। সবিতা ও গৌরী। গৌরীকে নিজের স্ত্রী বলে পরিচয় দিত মনোতোষ। সবিতা তার শাশুড়ি বলে জানিয়েছিল। বাড়ির ঠিকানা দিয়েছিল ব্যারাকপুরের।

বর্ধিষ্ণু এলাকা। সেখানে তেমন মেলামেশা ছিল না পরিবারটির। তবে পাড়া-পড়শিকে সবিতা জানিয়েছিল, জামাই মাছের ব্যবসা করে। মাঝে মধ্যে বাড়ি থেকে কয়েক দিনের জন্য গায়েব হয়ে যেত মনোতোষ। কেউ প্রশ্ন করলে সবিতা-গৌরীরা বলত, ব্যবসার কাজে বাইরে গিয়েছে। ওই বাড়িতে রাতের দিকে বাইরে থেকে লোকজন আসত বলে জানাচ্ছেন কেউ কেউ।

পড়শিরা জানিয়েছেন, ১০ নভেম্বর বাড়িতে তালা দিয়ে বেরোয় সবিতা-গৌরী। জানিয়ে যায়, কলকাতায় ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছে। একদিন বাদেই ফিরবে। কিন্তু তারপর থেকে বেপাত্তা। তার কয়েক দিন আগে থেকে দেখা নেই মনোতোষেরও।

পুলিশ আপাতত বসিরহাটের ওই বাড়িটি ঘিরে রেখেছে। দরজা সিল করে দেওয়া হয়েছে। অফিসাররা জানান, কলকাতা থেকে এসটিএফের অফিসাররা এলে বাড়ির ভিতরে তল্লাশি চালানো হবে।