দলেরই এক নেত্রীর মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, হাড়োয়ার গোপালপুরের বাসিন্দা অভিযুক্ত ওই বিজেপি নেতার নাম রাজেন্দ্র সাহা ওরফে সমু। তিনি বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক। পুলিশ রাজেন্দ্রর বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং ধর্ষণের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। 

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজেন্দ্র। তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। রাজেন্দ্র বলেন, ‘‘হাড়োয়ার তৃণমূল নেতাদের কাটমানির প্রতিবাদ করায় বিজেপির প্রভাব বাড়ছে। সে কারণে চক্রান্ত করে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।’’ তৃণমূল নেতা সঞ্জু বিশ্বাস বলেন, ‘‘এটা বিজেপির দলীয় কোন্দল। দোষ ঢাকতে অন্যদের নামে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনছে।’’          

পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে তরুণী জানান, রাজেন্দ্র তাঁর পূর্ব পরিচিত। বাড়িতেও যাতায়াত ছিল। তাঁর অভিযোগ, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বারাসতে দলের সভা আছে বলে তাঁকে নিয়ে যান রাজেন্দ্র। সন্ধ্যায় বারাসতের একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করেন। তরুণী রাজি না হওয়ায় তাঁকে ফ্ল্যাটে তালা বন্ধ করে চলে যান। কিছুক্ষণ পরে সিঁদুর নিয়ে এসে তাঁকে পরিয়ে দেন ওই বিজেপি নেতা। এরপরেই রাজেন্দ্র ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। ঘটনার কথা কাউকে জানালে ফল ভাল হবে না বলে হুমকিও দেন। তরুণীর অভিযোগ, এই ঘটনার পরে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তাতে রাজি হননি রাজেন্দ্র। উল্টে নানা ভাবে হুমকি দিতে থাকেন। শেষমেশ বাধ্য হয়ে শনিবার হাড়োয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি

বিজেপির জেলা সভাপতি গণেশ ঘোষ বলেন, ‘‘প্রাথমিক ভাবে জেনেছি বিরোধীদের চক্রান্তের শিকার হয়েছে রাজেন্দ্র। তা সত্ত্বেও যদি দলের কোনও নেতা দোষ করে থাকেন, তা হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ বিষয়টি ইতিমধ্যে দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে বলে জানান গণেশ।