বছর পাঁচেক আগে চোরাপথে দালাল ধরে এ দেশে ঢুকেছিল বছর উনত্রিশের এক বাংলাদেশি মহিলা। বেঙ্গারুলুতে গিয়ে এক ব্যক্তির কাছে কাজও জুটিয়ে নেয়। সেই বাড়ির এক ছেলের সঙ্গে প্রেম করে বিয়েও করে।

এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু বিপত্তিটা বাধল ওই মহিলা দেশের বাড়ি বেড়াতে যাবে বলে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করার পরেই। মহিলা পাসপোর্ট তৈরি  করেছিল দালাল ধরে।

স্বামী ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। কর্মসূত্রে দুবাই গিয়েছেন। স্বামী বিদেশে থাকায় মহিলা বুধবার দেশের বাড়ি যাবে বলে পেট্রাপোল সীমান্তে আসে। সেখানে অভিবাসন দফতরের কর্তারা নিয়মমাফিক তল্লাশির সময়ে ধরে ফেলেন মহিলাকে। কারণ, কিছু দিন আগেই ওই মহিলার নামে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে লুক আউট নোটিস জারি করেছিল। সে কথা জানা ছিল না মহিলার।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলা যে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করেছিল, সেই খবর ছিল গোয়েন্দাদের কাছে। সেই মতো তারা ব্যবস্থাও নিয়েছিল। পেট্রাপোল অভিবাসন দফতরের কাছেও খবর ছিল।

অভিবাসন দফতরের পক্ষ থেকে মহিলাকে পেট্রাপোল থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাসপোর্টে মহিলার নাম ছিল সুমি। কিন্তু তার আসল নাম সাদিয়া খানম। বাড়ি নড়াইলে। সে ২০১২ সালে চোরাপথে এ দেশে আসে। ধৃতের কাছ থেকে এ দেশের আধার কার্ড, প্যান কার্ড ও ভোটারকার্ড পাওয়া গিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈবাহিক সূত্রে কেউ এ দেশে এলে তাকে ন্যূনতম সাত বছর অপেক্ষা করতে হয় পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য। এ ক্ষেত্রে সেই নিয়মও মানা হয়নি।