প্ল্যাটফর্ম এবং রেল লাইনে বোমা মেলায় বসিরহাটের মধ্যমপুর স্টেশনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াল। সোমবার দুপুরে এই ঘটনায় হাসনাবাদ-বারাসত লাইনে এক ঘণ্টার উপর ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শেষে রেল পুলিশের তৎপরতায় বম্ব স্কোয়াডের লোকজন এসে বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করে। এই ঘটনায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।

রেলপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন বেলা ১১টা নাগাদ ওই স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের উপর একটি বড় তাজা বোমা পড়ে থাকতে দেখেন সাকিলা বিবি নামে এক মহিলা। মধ্যমপুর গ্রামের বাসিন্দা সাকিলা বলেন, ‘‘বাচ্চাদের অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্রে পৌঁছতে যাচ্ছিলাম। সে সময়ে বোমাগুলি দেখতে পাই। একটি বোমা প্ল্যাটফর্মে ছিল। আরও দু’টি লাইন এবং  লাইনের উপর পাথর দিয়ে ঢাকা ছিল বলে জানতে পারি।’’ তিনি বিষয়টি স্টেশনের রেল কর্মীদের জানান। এই খবর চাউর হতেই আশপাশের গ্রাম থেকেও স্টেশনে ভিড় হতে শুরু করে। এরপর রেল পুলিশ বোম স্কোয়াডের লোকজন নিয়ে আসে।

বোমাগুলি প্লাস্টিকের একটি জল ভরা বালতিতে রাখা হয়। ততক্ষণে স্টেশনে বোমা উদ্ধারের ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়েছে। যাত্রী  নিরাপত্তার কথা ভেবে হাসনাবাদ–বারাসাত শাখায় বিভিন্ন স্টেশনে এই সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

রেল পুলিশ ও টাকি স্টেশনের কর্মী সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি টাকি স্টেশন চত্বরে একটি আনাজের ঝুড়ির মধ্যে বেশ কয়েকটি বোমা ছিল। রেলপুলিশ তা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে দেন। স্টেশনে কেন  এমন ঘটনা বার বার ঘটছে তা খতিয়ে দেখছে রেল পুলিশ। এক রেল পুলিশের কথায়, ‘‘কয়েক বছর আগে বসিরহাট-হাসনাবাদের মধ্যে রেল লাইনের পাটি খুলে রাখার মত ঘটনা ঘটেছিল। এখন এই বোমা রাখা হল। যাত্রীদের ভয় দেখানো না এর পিছনে অন্য কোন কারণ আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ তবে সীমান্ত এলাকায় রেল লাইনে এমন ঘটনা চিন্তায় ফেলেছে রেলপুলিশের কর্তাদের। এ বিষয়ে রেল দফতরের আধিকারিকরা কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।