• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

লাঠি ছেড়ে অনুরোধের পথে পুলিশ, উপেক্ষা করে ভিড় অনেক জায়গাতেই

Police
জোড়হাতে: বোঝাচ্ছেন পুলিশ। ভাঙড়ে। ছবি: সামসুল হুদা

লকডাউন কার্যকর করতে গত কয়েক দিন ধরেই তৎপর পুলিশ। জমায়েত হঠাতে বেশ কিছু জায়গায় লাঠিও চালায় তারা। তবে বৃহস্পতিবার পুলিশকে লাঠি হাতে সে ভাবে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। বদলে বাইরে বেরোনো সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করে বাড়ি ফেরাতে দেখা যায় অনেক জায়গাতেই। এতে কোথাও কোথাও কাজ হলেও অনেক জায়গাতেই আড্ডা-জমায়েত চোখে পড়ে।

ক্যানিংয়ে গত কয়েক দিনের চেনা ভিড়টা এ দিন অনেকটাই ফাঁকা ছিল। রাস্তায় লোকজন ছিল কম। সকালে কিছু মানুষ বাজার করতে বাইরে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু নটার মধ্যেই ক্যানিং শহর কার্যত ফাঁকা হয়ে যায়। অন্য দিনের তুলনায় এ দিন দোকানপাটও অনেক কম খুলেছিল এলাকায়। তবে ভিড় ছিল তালদি বাজারে। বাজারে ভিড়ের খবর পেয়ে ক্যানিং ১ বিডিও নীলাদ্রিশেখর দে বাজারে গিয়ে মাইক হাতে জনগণকে সচেতন করেন। বিডিওর কথা শুনে অবশ্য দ্রুত বাজার ফাঁকা হয়ে যায়। এ দিন সকালে ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারে হাট বসে। সেখানে বহু মানুষ ভিড় জমান। ভাঙড়, ঘটকপুকুর, পোলেরহাট, জীবনতলা, শাঁকশহর-সহ বহু বাজারেই সকাল থেকে উপচে পড়ে মানুষের ভিড়।

বহু জায়গায় পাড়ার মোড়ে মোড়ে আড্ডা মারা,তাস খেলাও চলেছে। বিকেলে ভাঙড়ের পাগলাহাটের মৌলিমুকুন্দে ফুটবল নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন স্থানীয় যুবকেরা। একাধিক জায়গায় দেখা গিয়েছে এই ছবি।

পোলেরহাট বাজার, পাকাপোল বাজার-সহ বিভিন্ন এলাকায় দোকানে দোকানে ঘুরে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করে কাশিপুর থানার পুলিশ। দোকানের সামনে ক্রেতাদের নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে মাল কেনার জন্য দাগ কেটে দেওয়া হয়। পুলিশের অনুরোধের পর অনেককেই দেখা যায় নির্দিষ্ট দাগে দাঁড়িয়ে মাল পত্র কিনতে। 

জয়নগর-মজিলপুর পুরসভা ও স্থানীয় থানার উদ্যোগে এলাকার বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দোকানগুলির সামনে একইভাবে গোল দাগ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই নির্দিষ্ট দাগের মধ্যে দাঁড়িয়েই মালপত্র কিনছেন ক্রেতারা। ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাটের অনেক জায়গাতেও চেখে পড়ল একই ছবি।

কল থেকে জল নেওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়ানোর এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। মগরাহাট ১ ব্লকের উস্তি পঞ্চায়েত দেউলা লস্কর পাড়ায় পঞ্চায়েতের তরফে নলকূপের কাছে এক মিটার অন্তর গোল দাগ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মহিলারা জল নিতে এসে ওই গোল চিহ্নের মধ্যে দাঁড়াচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে একে অপরের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ দিন পুলিশি সক্রিয়তা কমায় এক শ্রেণির মানুষ বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। ভাঙড়ের বাসিন্দা শুভময় মণ্ডল বলেন, ‘‘পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে থাকলে মানুষকে কিছুতেই বাড়িতে বন্ধ করে রাখা যাবে না। সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছেন না আমাদের সামনে কত বড় বিপদের হাতছানি রয়েছে। বেপরোয়া মানুষগুলোকে শায়েস্তা করতে পুলিশের কড়া পদক্ষেপ প্রয়োজন।’’

এ দিকে, ভাঙড় ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ দিন ভিন রাজ্য থেকে ফিরে এলাকায় হোম কোয়রান্টিনে থাকা বেশ কয়েকজনের বাড়ি চার কেজি করে চাল পৌঁছে দেওয়া হয়। ব্লক সূত্রে খবর, অনেকেই ভিন রাজ্য থেকে এসে বাড়িতে রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের বাড়িতে বাজার করার তেমন কেউ নেই। তাঁরা নিজেরাও বাইরে বের হতে পারছেন না। ফলে সমস্যায় পড়েছেন। তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করতেই চালের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন