রাতে বাড়ির পাশে মদ খেয়ে মাতলামো, চিৎকার, গালিগালাজ করছিল কয়েকজন মদ্যপ যুবক। মেনে নিতে না পারায় প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই ‘অপরাধে’ তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

শনিবার রাত ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে হাবড়া থানার কাশীপুর এলাকার দক্ষিণ পাড়াতে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রহৃত দম্পতির নাম, আলামিন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী তানজুরা বিবি। আলামিন এখন হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,  ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপ যুবকদের দৌরাত্ম্য চলছে। স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে বহিরাগতরা জড়ো হয়ে বাগানে বসে মদ-গাঁজা খায়। জুয়া খেলে। ভয়ে এলাকার লোকজন তাদের কিছু বলতে পারেন না। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ১০টা নাগাদ কয়েকজন যুবক বাগানের মধ্যে মদ্যপান করে। মদ খেয়ে তারা মাতলামো শুরু করেছিল। ওই সময় আলামিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওই যুবকদরে মাতলামো করতে বারণ করেন। তারা যেন এখান থেকে চলে যায়—সে কথাও বলেন।

অভিযোগ, মদ্যপ ওই যুবকেরা  হুমকি দেয়। তাঁকে গালিগালাজ করে। লাঠি-বাঁশ দিয়ে আলামিনকে মারা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর মাথা ফেটে যায়। মাটিতে ফেলে তাঁকে লাথি, ঘুষি মারা হয়। স্বামীকে বাঁচাতে এসে জখম হন স্ত্রী তানজুরা বিবি। অভিযোগ তাঁকেও মারধর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,  সকাল থেকেই এলাকার বাগানগুলোতে শুরু হয়ে যায় নেশার আসর। জুয়া-সাট্টা খেলা হয়। বাইরে থেকে যুবকেরা এখানে এসে ভিড় করে। চলে গালিগালাজ। এলাকার মানুষের অভিযোগ, এ সব যুবকদের জন্য এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মহিলারা বিপদে পড়েছেন।

প্রমিলা বিশ্বাস নামে এক মহিলার বাগানে নেশার আসর বসে। ওই মহিলার কথায়, ‘‘আমার স্বামী অসুস্থ। সকাল থেকে শুরু হয়ে যায় নেশার ঠেক। একা মহিলা ভয়ে কোনও প্রতিবাদ করতে সাহস পাই না।’’ মহসিন মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির কথায়, ‘‘এলাকার পরিবেশ পুরো নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমরা চাই নেশামুক্ত সুস্থ পরিবেশ।’’

এক মহিলা জানান, এলাকায় নেশা জুয়া চলে। আমার স্বামীও নেশা করতে শুরু করেছে। পরিবারে অশান্তি চলছে।